প্রয়াত সাংবাদিক ইসহাক কাজল-এর মৃত্যুতে বৃহত্তর নাগরিক শোক সভা পালনে মতবিনিময় সভা বুধবার

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

প্রয়াত সাংবাদিক ইসহাক কাজল-এর মৃত্যুতে বৃহত্তর নাগরিক শোক সভা পালনে মতবিনিময় সভা বুধবার

মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ইসহাক কাজল গত সোমবার লন্ডনস্থ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় গ্র্যাটার লন্ডনের কুইন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

তাঁর মৃত্যুতে বৃহত্তর নাগরিক শোক সভা পালনের উদ্দেশ্যে এক মতবিনিময় সভা আগামীকাল বুধবার ৩টায় সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, লেখক নেতৃবৃন্দ, ছাত্র, যুব, নারী ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

৭২ বছরের বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক দীর্ঘ দিন ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ১৯৪৮ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা পতনউষার ইউনিয়নের পতনউষা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পতনউষা বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা ও সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কমরেড ইসহাক কাজলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান সহ বাঙালীর অধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

 

১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে এদেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি রণাঙ্গনে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি উপলব্ধি করে এদেশে ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের মুক্তি আসেনি। তাই তিনি শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সাথে আত্মনিয়োগ করেন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পুলিশী হয়রানির শিকার হয়ে তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৭৬ সালে সেনা শাসক জিয়াউর রহমান শাসনামলে তিনি একমাস সাতদিন কারাবরণ করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারনেও তিনি একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়ে দেশ ত্যাগ করে কুয়েতে বসবাস করতে বাধ্য হন।

 

এদিকে তাঁর জীবনাবসানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড সিকান্দর আলী ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইন্দ্রানী সেন শম্পা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা জানান।

 

এছাড়াও গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কে. এ. কিবরিয়া, সাম্যবাদী দল কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য ও সিলেট জেলা সম্পাদক কমরেড ধীরেন সিংহ, গণতন্ত্রী পার্টি সিলেট জেলা সভাপতি মো. আরিফ মিয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাংলাদেশ জাসদ সিলেট জেলা সভাপতি কলন্দর আলী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাকির হোসেন, বাসদ মার্কসবাদী সিলেট জেলা সমন্বয়কারী কমরেড উজ্জল রায়, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর সহ বিভিন্ন ছাত্র, যুব, নারী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম