যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশের চোখে জয়ের স্বপ্ন

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশের চোখে জয়ের স্বপ্ন

ক্রীড়া ডেস্ক
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ভারতের ব্যাটসম্যানদের মাত্র ১৭৭ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা। ফলে এই প্রথম ক্রিকেটে বিশ্বজয়ের অনেক কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে গেছে ইয়ং টাইগাররা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১৭৮ রানের সহজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেই হয়ে যাবে বাংলাদেশের বিশ্বজয়।

 

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের যুবারা। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

 

শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতীয় যুবারা। তানজিম হাসান সাকিব আর শরিফুল ইসলাম মিলে প্রথম ৬ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৮ রান। এরপর ৭ম ওভারে এসেই মেডেন ওভারের পাশাপাশি ১ উইকেট তুলে নেন অভিষেক। টানা ডট বলের চাপে ফেলে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রথম উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশের যুবারা। ভারতীয় ওপেনার সাক্সেনাকে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়ে উইকেটটি নিয়েছেন অভিষেক দাস।

 

তবে দ্বিতীয় উইকেটে নামা তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন ওপেনার জয়সাওয়াল। অবশেষে দলীয় ১০৩ রানে ফেরেন তিলক। ৬৫ বল খেলে ৩ চারে ৩৮ রান তুলেন তিনি। ২ উইকেট হারিয়ে ওপেনার জয়সাওয়ালকে সঙ্গ দিতে এসেছিলেন ভারতের দলপতি গার্গ। তবে তাকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি রাকিবুল। সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে ৭ রানেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন রাকিবুল।

 

টাইগার যুবাদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল ভারতীয় ওপেনার জয়সাওয়াল। অবশেষে এই ওপেনারকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি এনে দেন পেসার শরিফুল। জয়সাওয়ালকে ব্যক্তিগত ৮০ রানে তানজীদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শরিফুল। এর পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান ভীরকে শুন্য রানে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন শরিফুল।

 

দলীয় ১৬৮ রানে শামীমের থেকে বল পেয়ে যখন আকবর আলী উইকেট ভাঙেন, তখন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান একই প্রান্তে। জুরেলের ডাকে সাড়া দিয়ে রান নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন আনমোলকার। কিন্তু মাঝপথে ফিরে আসেন। ততক্ষণে জুরেলের ফিরে যাওয়ার উপায় ছিল না। প্রায় একই সঙ্গে দুই ব্যাটসম্যান বোলিং প্রান্তে ব্যাট স্পর্শ করেন। মাত্র কয়েক ইঞ্চি এগিয়ে থেকে বেঁচে যান আনমোলকার। ২২ রানে জুরেল ফেরেন সাজঘরে।

 

দলীয় স্কোরকার্ডে মাত্র ২ রান যোগ হতেই ভারতীয় শিবিরে আবারো টাইগারদের হানা। এবার ফিরলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিস্ময়। স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই আনমোলকার (৩) বোল্ড করে উড়িয়ে দেন অভিষেক।

 

এরপর ভারতের টেল এন্ডারদের ফেরাতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। ইনিংসের ৪৭.২ ওভারে ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।

 

পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে দুই দলই। ফাইনালে ওঠার পথে গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে আকবর আলির দল।

 

অন্যদিকে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় পেয়েছে ভারতীয় যুবারা। শ্রীলঙ্কা, জাপান ও নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল পাত্তাই পায়নি ভারতের কাছে। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া এবং সেমিফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকেও হেসেখেলে হারিয়েছে প্রিয়ম গার্গের দল।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ভারত: ৪৭.২ ওভারে ১৭৭/১০ (জসওয়াল ৮৮, তিলক ভার্মা ৩৮, ধ্রুব জুরেল ২২; অভিষেক দাস ৩/৪০, তানজিদ হাসান সাকিব ২/২৮, শরিফুল হাসান ২/৩১)।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম