সীমান্ত সুরক্ষা এবং অপরাধ দমন এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ : বিজিবি মহাপরিচালক

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২০

সীমান্ত সুরক্ষা এবং অপরাধ দমন এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ : বিজিবি মহাপরিচালক

সোনালী সিলেট ডেস্ক
সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্তে অপরাধ দমন এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জনারেল সাফিনুল ইসলাম।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

মেজর সাফিনুল ইসলাম বলেন, ভারতে নাগরিক আইন নিয়ে সংকট তৈরির পর গত দুই মাসে ভারত থেকে ৪৪৫ জন অনুপ্রবেশ করেছে। গত এক বছরে এর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই বাংলাদেশি। যেসব বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে তারা বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে পাড়ি দিয়েছেন বা পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ঝিনাইদহ, মহেশপুর এবং সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়েই বেশিরভাগ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ২৫৩টি মামলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩জন দালালও আছেন।’

 

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘ভারতে নাগরিক আইন সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, অবৈধভাবে কেউ সীমান্ত যাতে অতিক্রম করতে না পারে। আমরা এটা সফলভাবেই করে যাচ্ছি।’

 

ডিজি বলেন, ‘এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেনস) বা সিএএ (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে গত ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে কোনো আলোচনাও হয়নি। দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে কোনো টেনশন নেই।’

 

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবি ডিজি বলেন, ‘আমাদের হিসেবে ২০১৯ সালে সীমান্তে ৩৫ জন মারা গেছেন। ভারতের হিসেবে আরও কম। এ বিষয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলনে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশ এক হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কোনো সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের কোনো বেড়া দিইনি। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৭০ কিলোমিটার বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এর কাজ শুরু হবে।’

 

বিজিবিপ্রধান বলেন, ‘দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্ত খুবই পিকিউলিয়ার। কারও রান্নাঘর বাংলাদেশে, আবার থাকার ঘর ভারতে। ভারতের অনেক প্রতিবেশীর বাড়ি বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের অনেক প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়ের বাড়ি ভারতে। এসব নাগরিকরা জরুরি প্রয়োজনে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে অংশ নিতে চায়। এ ভিসার পরিবর্তে তাদের জন্য অল্প সময়ের জন্য তাৎক্ষণিক পাস দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।’

 

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম জানান, ‘বিজিবিকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। চোরাকারবারীদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণেই এটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘শিগগিরই দুইটি হেলিকপ্টার কিনছে বিজিবি। একটি হেলিকপ্টার ১৭ জানুয়ারি আসবে। মিয়ানমার সীমান্ত এবং সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তায় রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘অস্ত্রের দিক দিয়ে আমরা মিয়ানমারের চেয়ে দুর্বল নই। তবে তাদের স্পিডবোট অত্যন্ত উন্নতমানের। আর আমাদের স্পিডবোট হল মাওয়া-কাওড়াকান্দি মানের।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া বিজিবি কখনও গুলি ছুঁড়ে না।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আমাদের অ্যাপস ‘রিপোর্ট টু বিজিব’ এর মাধ্যমে অবহিত করুন। অভিযোগকারীর নাম-ঠিাকানা গোপন রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

বিজিবির ডিজি বলেন, ‘বাংলদেশ-ভারত সীমান্তে ২৭৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গত সম্মেলনে ভারতকে জানানো হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে বিএসএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম