নিষিদ্ধ কিছু পণ্য ছাড়া প্রায় সবকিছুই বাংলাদেশে আমদানি করা যায় : অতিরিক্ত সচিব

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

নিষিদ্ধ কিছু পণ্য ছাড়া প্রায় সবকিছুই বাংলাদেশে আমদানি করা যায় : অতিরিক্ত সচিব

সোনালী সিলেট ডেস্ক
আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত সচিব) প্রাণেশ রঞ্জন সূত্রধর বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের দূরদর্শীতায় বর্তমানে সকল ধরণের সার্টিফিকেটকে অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর সুফল ব্যবসায়ীরা পাবেন। নিষিদ্ধ কিছু পণ্য ছাড়া প্রায় সবকিছুই বাংলাদেশে আমদানি করা যায়। কারণ, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বিকাশে আমদানি খাতে প্রতিবন্ধকতা বর্তমানে অনেক কমানো হয়েছে।

 

তিনি সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টায় চেম্বার কনফারেন্স হলে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

 

সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েবের সভাপতিত্বে সভায় আমদানিকারকদের অনলাইনে ওএলএম একাউন্টের মাধ্যমে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ওএলএম একাউন্টের আমদানি ব্যবসা পরিচালনা করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমে আসবে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

 

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বর্তমানে রবি ও বাংলালিংক ছাড়া অন্য কোন মোবাইল অপারেটর থেকে অনলাইনে আমদানি সনদপত্র নিবন্ধনের আবেদন করা যাচ্ছে না, তবে সম্প্রতি গ্রামীণফোনের সাথে এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শীঘ্রই গ্রামীণফোন থেকেও অনলাইন নিবন্ধনের আবেদন করা যাবে। আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অফিসগুলোতে লোকবল বৃদ্ধি ও এলসি স্টেশনের ডাম্পিং এরিয়ার শেড তৈরীর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। তিনি আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স নবায়নে বিলম্ব হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে বিলম্ব ফি কমানোর লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিবান্ধব সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারকে উন্মুক্ত করেছেন। আমদানি রপ্তানি সনদপত্র এখন অনলাইনে করা যাচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে আমদানি সনদপত্র অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। কিন্তু সিলেটের আমদানিকারকগণ এই সিস্টেমের সাথে পরিচিত না থাকায় এবং প্রায় ৯০ ভাগ আমদানিকারকগণের কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনলাইন সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে তারা বেশ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, আমদানি সনদপত্র রি-রেজিস্ট্রেশনের সময় অনেকগুলো দলিল দাখিল করতে হয়। যেমন- টিআইএন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ফটো, চেম্বার সার্টিফিকেট, আইআরসি এর কপি, পাসবুক এর কপি, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক সলভেন্সি, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক এনওসি ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদানকৃত এসব ডকুমেন্টে মালিকের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্নভাবে লিখা থাকে। যার জন্য ঙখগ এ আবেদনের পর এসব ভিন্নতা ঠিক করতে বলা হয়। এজন্য আমদানিকারকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।

 

শোয়েব বলেন, নবায়ন ফি ও মূসক বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অনেক সময় ব্যাংকে কোড নম্বর দিতে ভুল হয়ে যায় এবং এটি সংশোধনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমদানিকারকদের পুণরায় টাকা জমা দিতে হয়। তিনি এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নিয়ন্ত্রককে অনুরোধ জানান। এছাড়াও তিনি আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সিলেট কার্যালয়ের লোকবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নের অনুরোধ জানান।

 

তিনি তামাবিল স্থলবন্দরে কয়লা, পাথর, চুনাপাথর ইত্যাদি ডাম্পিং এর ক্ষেত্রে ডাম্পিং স্পেস ভাড়া হ্রাসকরণ, শুল্ক স্টেশন সমূহে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ, আমদানিকৃত পণ্য দ্রুততম সময়ের খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

 

সভায় বক্তাগণ আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অফিসে কর্মরত কর্তকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ এবং আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের অনুরোধ জানান।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন সাহা, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি খয়রুল হুসেন, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মো. এমদাদ হোসেন, মো. সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মুশফিক জায়গীরদার, আব্দুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, এসএমসিসিআই এর সাবেক ১ম সহ সভাপতি মো. আব্দুল জব্বার জলিল, পরিচালক অজয় কুমার ধর প্রমুখ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম