বিভক্ত নেতাকর্মীরা, দুই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বে সিলেট বিএনপি

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

বিভক্ত নেতাকর্মীরা, দুই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বে সিলেট বিএনপি

সোনালী সিলেট ডেস্ক রিপোর্ট ::: মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় দ্বন্দ্বে পড়েছে সিলেট বিএনপি। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। এ অবস্থায় শীর্ষ নেতাদের অনেকে রয়েছেন মৌন। কোনো প্রার্থীর সাথেই এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি তাদের।

আবার এক প্রার্থীর সমর্থকরা অপর প্রার্থী বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেও দেখা গেছে। এই বিভক্তি আর বিষোদগার আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আরও সঙ্কটে ফেলতে পারে বলে মনে করেন দলটির একাধিক নেতা। দ্রুতই একক প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান তাদের।

বিএনপির দুই প্রার্থীই বুধবার সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। সিলেট-১ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল মালিক চৌধুরীর ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দুপুরে এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী বিকেলে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মুক্তাদির বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কেবল জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক ও ইনাম আহমদের সাথে কেবল কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন। আর কোনো শীর্ষ নেতাদেরই তাদের সাথে দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন ইনাম আহমদ চৌধুরী। তবে এসব কর্মসূচিতেও প্রবীণ এই নেতার সাথে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি। বরং সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যাওয়ার কারণে দলের ভেতরেই সমালোচনায় পড়তে হয় তাকে।

এই দুই জনকে মনোনয়ন দেওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে এই দুই নেতার অনুসারীরা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একপক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তুলছেন।

আর সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছেন। এক আজমল বখত সাদেক ছাড়া অন্য নেতাদের কোনো প্রার্থীর সাথেই দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনাম আহমদ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় নেতাদের অনেকেই দ্বিধায় আছেন। একক প্রার্থী চূড়ান্ত হলে এই দ্বিধা কেটে যাবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন। তবে অবশ্যই আমাদের সকলকে সম্মানিত লোকের সম্মান রক্ষা করে কথা বলতে হবে। যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে।

বুধবার মনোনয়নপত্র জমাদানকালে খন্দকার মুক্তাদিরের সাথে থাকা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক বলেন, বিএনপিতে কোনো বিভক্তি নেই। প্রার্থী সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হলেও তা কেটে যাবে। আমরা চাই, যিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন, সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে আছেন এমন ব্যক্তিকেই যেনো দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম