মৃত্যু নিয়ে রহস্য : ময়নাতদন্তের জন্য ২৪ দিন পর মরদেহ উত্তোলন

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

মৃত্যু নিয়ে রহস্য : ময়নাতদন্তের জন্য ২৪ দিন পর মরদেহ উত্তোলন

দোয়ারাবাজার সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মৃত্যুর ২৪ দিন পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে মোশারফ হোসেন মাসেকের (৬৫) মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রামের কলাউড়া মাদ্রাসার কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।

 

এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল চন্দ্র, দোয়ারাবাজার থানার এসআই রাকিবুল হাসান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের রামসাইরগাও গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন মাসেক গত ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা মাইজবাড়ীকোট এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী রাবিয়া আক্তার লাকীর বাবার বাড়িতে মারা যান। এদিন মোশারফ হোসেন মাসেকের মরদেহ তার নিজ বাড়ী রামসাইরগাও নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন। পরে স্থানীয় কলাউড়া মাদ্রাসা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

এদিকে মোশারফ হোসেন মাসেককে পরিকল্পিত হত্যা উল্লেখ করে তার মেয়ে মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার রুমি গত ৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা (সি আর ৩১৫/১৯) দায়ের করেন।

 

মামলায় মোশারফ হোসেন মাসুক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবিয়া আক্তার লাকী (৪০), বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভাওয়ালীপাড়া গ্রামেরমৃত মুসলিম ঢালির ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৪০), কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার পূর্ব অসততলা বাগমারা (শাসনগাছা মাজন বাড়ী ) গ্রামের নকসুদ আলীর স্ত্রী হাসি আক্তার (৫৫), মৃত রমজান আলীর ছেলে মকসুদ আলী (৬০),মকসুদ আলীর ছেলে ছোটন মিয়া (৩৫) সহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করেন।

 

নিহত মোশারফ হোসেন মাসেকের মেয়ের জামাতা দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রেনু মিয়া বলেন, আমার শশুর বিদেশে থাকা অবস্থায় সৎ শাশুড়ি উনার নামে কুমিল্লায় একটা বাড়ি করেন। আমার শশুর দেশে আসার পর জানতে পারেন কুমিল্লায় যে বাড়ি কিনা হয়েছে সেই বাড়ি উনি উনার নামে করে নিয়েছেন। এর পরেই আমার শশুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সুযোগে আমাদের এলাকার ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেনের যোগ-সাজসে যা জমি-জমা ছিল কৌশলে উনার নামে নিয়া গেছেন এবং জমি জমা বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছেন।

 

দোয়ারাবাজার থানার এসআই রাকিবুল হাসান বলেন, মামলাটি আদালতের আমলে নিয়ে এফআইআর হিসাবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসি দোয়ারাবাজার থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ পেয়ে ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি (মামলা নং ১২) গ্রহণ করা হয়। একই সাথে আদালতে মরদেহ উত্তোলনের জন্য আবেদন করি। আবেদনের পর মরদেহ উত্তোলনের জন্য অনুমতি পেয়ে আজ মরদেহ উত্তোলন করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম