আদালত প্রাঙ্গণে ভিড়ের মধ্যেই আইএসের টুপি পেয়েছিল রিগ্যান!

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

আদালত প্রাঙ্গণে ভিড়ের মধ্যেই আইএসের টুপি পেয়েছিল রিগ্যান!

সোনালী সিলেট ডেস্ক
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মনোগ্রাম সম্বলিত টুপি আদালত প্রাঙ্গণে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন তাকে দিয়েছিলেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান (২২)।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ জঙ্গি আস্তানার মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে রিগ্যানও আসামি। ওই মামলায় রিগ্যানসহ সাত আসামিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নিচতলায় হাজতখানায় এনে রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে হাজতখানা থেকে আসামিদের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় রায় প্রদানকারী ওই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ ট্রাইব্যুনালেই এ মামলা বিচারাধীন।

ট্রাইব্যুনালে আসামিদের তোলার পর বিচারক মামলাটিতে পলাতক থাকা আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিটের সম্পত্তি ক্রোকের বিষয়ে আজ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদানের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

এরপর বিচারক মজিবুর রহমান কাঠগড়ায় থাকা আসামি রিগ্যানকে হলি আর্টিজান মামলার রায়ের দিন তার মাথায় আইএসের মনোগ্রাম সম্বলিত টুপি তিনি কোথায় পেলেন মর্মে প্রশ্ন করেন। উত্তরে রিগ্যান বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে কেউ দিয়েছে’। কে দিয়েছে বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তাকে চিনি না’। এরপর বিচারকের ‘টুপি কেন নিলেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে রিগ্যান বলেন, ‘টুপিতে আরবিতে কলেমা শাহাদাৎ লেখা ছিল। তাই নিয়ে ভালো লাগায় পরি’।

এরপর বিচারক প্রশ্ন করেন, আর কাউকে ওই টুপি দিয়েছে কি না? জবাবে রিগ্যান বলেন, ‘আর কাউকে দেয়নি। তবে আমাকে দেওয়া টুপিই প্রিজনভ্যানে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী পরেছিলেন।’

প্রসঙ্গত, কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ জঙ্গি আস্তানায় এ মামলায় গত ১১ এপ্রিল পুলিশের তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল চার্জশিট আমলে নিয়ে পলাতক আজাদুল কবিরাজের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। এরপর গত ২৮ অক্টোবর ওই আসামির সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

এ মামলার অপর আট আসামি হলেন, রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২১), আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ (২০), শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান (২৫), মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন (৩০), হাদিসুর রহমান সাগর (৪০), আবদুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুলমেন (৩৩), সালাহ্ উদ্দিন কামরান (৩০), আবদুর রউফ প্রধান (৬৩) ও নব্য জেএমবির অধ্যাত্মিক নেতা সংগঠনটির একাংশের আমির মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর (৬০)। তাদের মধ্যে রিগ্যান, র‌্যাশ, সাগর, মামুন, খালেদ ও সবুর খান গুলশানের হলি আর্টিজান মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ বাড়িতে ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ভোর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি মারা যান। রাকিবুল হাসান রিগ্যান গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হন। একজন পালিয়ে যান।

ওই ঘটনায় ওই বছর ২৭ জুলাই রাতে মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. শাহজাহান আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬(২), ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় এ মামলা করেন।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম