ধর্মপাশায় কৃষকের টাকায় পাউবো কর্মকর্তার বাঁধ পরিদর্শন!

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ধর্মপাশায় কৃষকের টাকায় পাউবো কর্মকর্তার বাঁধ পরিদর্শন!

ধর্মপাশা সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কৃষকের টাকায় কাইল্যানী হাওরের (শাহপুরের জাঙ্গাল) ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পওর-২) মাহমুদুল ইসলাম এমনটি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপজেরা সচেতন মহলে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন কৃষকদের টাকায় বাঁধ পরিদর্শনের নিয়ম নেই।

কাইল্যানী হাওরের থেকে পানি নামতে না পারায় স্থানীয় কৃষকেরা জমিতে বীজ বুনতে পারছেন না। ফলে শাহপুরের জাঙ্গাল কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য চামরদানী ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া গত কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পওর-২) মাহমুদুল ইসলাম উপজেলার মধ্যনগর বাজারে গেলে কাইল্যানী হাওরের কৃষকদের পক্ষ থেকে শাহপুরের জাঙ্গাল পরিদর্শন করার জন্য আহ্বান জানানো হয় তাকে। প্রথমদিকে মাহমুদুল ইসলাম সময় না থাকার অজুহাতে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি কৃষকদেরকে একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করতে বলেন। আর্থিক সংকটের কারণে কৃষকেরা স্পিডবোটের ব্যবস্থা করতে না পেরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাকে জানান। পরে কৃষকেরা নিরুপায় হয়ে একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করলে মাহমুদুল ইসলাম জাঙ্গাল পরির্দশনে যান।

কৃষক শাহজাহান মিয়া জানান, স্পিডবোটে করে জাঙ্গাল পরিদর্শন করেছেন ওই পাউবো কর্মকর্তা। কৃষকের পক্ষ থেকে স্পিডবোটের ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কৃষকের কাছ থেকে কত টাকা ভাড়া টাকা দেওয়া হয়েছে তা তিনি বলতে রাজি হননি।

চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন, ‘শাহপুরের জাঙ্গাল না কেটে দিলে কৃষক জমিতে বীজ বুনতে পারবে না। জাঙ্গাল কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য শাহজাহান নামের একজন কৃষক ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন। পাউবোর কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম জাঙ্গাল পরিদর্শনের জন্য কৃষকদের কাছে স্পিডবোট দাবি করার বিষয়টি কৃষকেরা আমাকে জানিয়েছেন।’

তবে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখছেন অভিযুক্ত সুনামগঞ্জ পাউবোর (পওর-২) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি কাটা যাবে কী না তা দেখে আসার জন্য ইউএনও স্যার ফোনে আমাকে বলেছেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য জায়গাটি প্রতিবছর কাটতে হয়। সেখানে ট্রলারে গেলে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগতো। তাই কৃষকদের বলেছি একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করার জন্য। আমি সাথে টাকা নিয়ে যাইনি। কৃষকেরা ভাউচার দিলে আমি বিল দিয়ে দিবো।’

এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সিলেট ভয়েসকে বলেন,’কৃষকদের টাকায় বাঁধ পরিদর্শনের কোন নিয়ম নাই। উনি কেন এটা করলেন আমি ব্যাপারটি জিজ্ঞাস করবো।’

লিখিত আবেদ পাওয়ার পরো উদাসীনতা কেন এমন প্রশ্নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি পাউবো কর্মকর্তাকে ফোনে জানিয়েছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম