বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

সোনালী সিলেট ডেস্ক
বিশ্বনাথে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের লোকজন দাবী করছেন তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি, মৃতের পরিবারের সঙ্গে তার কোন বিরোধ নেই। সুতরাং, হত্যা করার প্রশ্নই আসে না।
মৃত ব্যক্তির নাম মুক্তার মিয়া (৬০)। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বড়তলা গ্রামের আব্দুল গণির পুত্র ও স্থানীয় পনাউল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ী।

তার পরিবারের দাবি মুক্তার মিয়াকে ব্যবসায়ীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক মুক্তার মিয়া বছর খানেক পূর্বে তার স্ত্রী রাহেনা বেগম মারা গেলে কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিধবা জেসমিন বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে মুক্তার-জেসমিনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। এ নিয়ে পিতা-মাতা, ভাই-বোনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল মুক্তার মিয়ার। বুধবার সকালেও মুক্তার-জেসমিনের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে স্থানীয় পনাউল্লাহ বাজারের দোকানে চলে যান তিনি। ফেরেন রাত ১২টার দিকে।

মুক্তার মিয়ার পিতা আব্দুল গণি বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তারের বসত ঘরের সামনে তার গোঙানির শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে সে বিষপান করেছে বলে জানায়। তাৎক্ষণিক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টায় সে মারা যায়। আমার ছেলে তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে অভিমান করে নিজেই বিষপান করে মারা গেছে। তাকে কেউ বিষপান করায় নি।

মুক্তার মিয়ার প্রথম পক্ষের বড় ছেলে ছালেক মিয়া জানান, আমার ফুফু ও সৎমার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমানের। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার পিতার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আমার চাচা বাবুল মিয়া, সেবুল মিয়া, সৎমা জেসমিন বেগম ও ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান। তারা আমার পিতাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন।

ছালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার ফুফু ও সৎমার সঙ্গে ইউপি সদস্য সাইদুর রহমানের অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তিনি এবং আমার চাচা বাবুল মিয়া, সেবুল মিয়া, ফুফু রাজনা বেগম কেলন ও সৎ মা জেসমিন বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে পরিকল্পতিভাবে আমার পিতা মুক্তার মিয়াকে বিষপান করিয়ে হত্যা করেছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, মুক্তার মিয়া বা তার পরিবারের সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। সুতরাং তাকে বিষপান করানোর প্রশ্নই উঠে না। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মুক্তার মিয়া বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে এখনো আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম