সিলেটে লবণাক্ত একদিন : জরিমানা গুণল যেসব প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

সিলেটে লবণাক্ত একদিন : জরিমানা গুণল যেসব প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদন
লবণাক্ত পুরো একদিন কাটিয়েছেন সিলেটবাসী। গত সোমাবার দিনটি কারো কাছে ছিল হাস্যরসের। আবার কারো ছিলে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের। হঠাৎ করে লবণের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মোবাইলে একে অন্যকে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্থানীয় বাজারে লবণ কেজি প্রতি কত টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কেউ সঠিক তথ্য দিয়েছেন আবার কেউ কেউ শোনা কথা শুনিয়ে অপর প্রান্তের লোকটিকে বিভ্রান্ত করেছেন। এভাবেই এক মুখ থেকে আরেক মুখে ছড়িয়ে পড়ে লবণের কেজি ১২০টাকা। তবে, এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গুজব ছড়াতে থাকে সিলেটের বাতাসে। তাইতো সুযোগ হাতছাড়া না করে লবণ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতা সাধারণ।

এদিকে আরও দাম বৃদ্ধিতে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কোন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লবণের বস্তা দোকান থেকে সরিয়ে অন্যত্র স্টক করার মতো ফন্দি আটেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারী বাজার থেকে লবণ কিনে দোকানে মজুদ করতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। এক কেজির স্থল অন্তত ১০ কেজি করে লবণ সংগ্রহ করেন ক্রেতারা।

অপরদিকে এমন গুজবে কান না দিতে বার বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়। বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং পর্যন্ত করা হয়। তাতেও কোন সুফল হয় নি। পরে হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ নাম্বার চালু করা হয়। বলা হয়, কেউ অতিরিক্ত দাম চাইলে ৯৯৯ নাম্বারে অভিযোগ করার জন্য। সেই সাথে দোকানের নাম ঠিকানাও উল্লেখ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিস্থিত সামাল দিতে রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। আটক করা হয় ৪৫ বস্তা লবন ও জরিমানা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার নগরীরর বিভিন্ন এলাকায় সিলেট জেলা প্রশাসন, সিলেট বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পৃথক অভিযানে নামে।

অভিযানে অতিরিক্ত দামে লবন বিক্রির দায়ে ১৯টি দোকানে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।

সকাল থেকে নগরীর কাজিটুলা, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহর, শাহপরান, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে ১৯টি দোকানে জারিমানা করেন সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া, সিসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ, সহকারি পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিলেট সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি।

জরিমানা করা দোকানগুলো হচ্ছে- কাজীটুলা জনতা স্টোরকে ৩ হাজার, শাহী ঈদগাহ বেগম স্টোরকে ৩ হাজার, ধানসিড়ি রুবেল স্টোরকে ২০ হাজার, আব্দুল্লাহ স্টোরকে ৭ হাজার ও আম্বরখানা ফরিদ স্টোরকে ৮ হাজার টাকা। শাহপরানে সাফা স্টোরকে ৪ হাজার ও অলক স্টোরকে দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বালুচরে বিসমিল্লা স্টোরকে ৭ হাজার, মেডিসিন স্টোরকে ৩ হাজার, নাহার মেডিসিন স্টোরকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ব্রহ্মময়ী বাজারে ইনসাফ গ্রোসারিকে ১০ হাজার, এসএম ট্রেডার্স ২০ হাজার, আনিস মিয়া স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রিকাবীবাজারে মেসার্স আনাস গ্রোসারি সপকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়। আম্বরখানায় দুটি দোকানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো মেসার্স হাসান স্টোর ও মেসার্স জসিম স্টোর। মদিনা মার্কেটে বিআর স্টোরকে ১৫ হাজার, রণজিৎ স্টোরকে ১৫ হাজার ও সায়েম ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম