কসবায় নিহত ১৬ জনের ৯জনই সিলেটের

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

কসবায় নিহত ১৬ জনের ৯জনই সিলেটের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা স্টেশনে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৯ জনই সিলেট বিভাগের। সিলেট বিভাগে নিহত ৯ জনের ৮ জন হবিগঞ্জ জেলার ও একজন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা বলে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো এ তথ্য সিলেট ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ১৬ জনের ৯ জনই সিলেটের। কিছুক্ষণের মধ্যে সকলের নাম পরিচয় জানানো হবে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা দুর্ঘটনায় নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন।

ইতোমধ্যে স্বজনরা নিহতদের মরদেহ আনতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আমাদের হবিগঞ্জ অফিসের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুর রহমান তারেক ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সাজু মারছিয়াং।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে নিহতদের মধ্যে সিলেট বিভাগের ৯ জন হলেন- হবিগঞ্জ শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (১২), আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার দুই বছরের মেয়ে আদিবা আক্তার সোহা (২), একই উপজেলার মদনমুরত গ্রামের আল-আমিন, চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের পশ্চিম তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার (২৫), একই উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩০), একই উপজেলার আহমদাবাদ গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬৫), হবিগঞ্জের রিপন মিয়া (২৫) ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুরে মৃত মুসলিম মিয়ার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী জাহেদা বেগম (৪০)।

এদিকে নিহতদের নাম পরিচয় সঠিকভাবে নিশ্চিত না করতে পারলেও ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে সিলেট ভয়েসকে জানিয়েছেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘নিহত ১৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। আমরা এখান থেকে চলে এসেছি। কিন্তু আমাদের লোক আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে তালিকা আছে। কিছুসময় পরে আমরা তালিকাটা পেয়ে যাবো। তবে ট্রেনটা যেহেতু সিলেট থেকে ছেড়ে এসেছিলো তাই নিহত অধিকাংশই সিলেটের বলেও আমরা জেনেছি।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে ছিল। মন্দভাগ রেল স্টেশনের কাছে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুটি ট্রেনেরই বেশ কয়েকটি করে বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ১৬জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত।

এতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও রেলওয়ে থেকে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এসব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে মোট এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম