মজুমদারীতে এক সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯

মজুমদারীতে এক সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সিলেট নগরীর মজুমদারী তরঙ্গ আ/এ এলাকায় মো: রুহেল আহমেদ তালুকদার নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টা হতে সাড়ে ১২ টার মধ্যে স্থানীয় বিমান অফিসের নিকটবর্তী মজুমদারী তরঙ্গ ১/৫ নং বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি রুহেল আহমেদ তালুকদার জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করতেন। তিনি মজুমদারী তরঙ্গ এলাকায় ২/৩ মাস যাবৎ বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে উল্লেখিত সময়ে ঐ বাসায় রুহেল তালুকদার একাই ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। ঘটনার বিবরণে ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রুহেল তালুকদার তার ২য় স্ত্রীর বাড়ী ছাতকের নরসিংপুর গ্রামে দাওয়াত খেতে যান। তিনি বিকালে মজমুদারীর বাসায় ফিরে আসেন। এ বাসা থেকে তিনি আর বের হননি। একই দিন তিনি ১ম স্ত্রী তার বাসা থেকে ৩ সন্তানসহ অন্যত্র চলে যান। রাতে রুহেল তালুকদার বাসায় থেকে ১ম স্ত্রীকে অনেক কাকুতি-মিনতি করেন তাকে ৪ মিনিটের জন্য সাক্ষাৎ করতে এতে স্ত্রী সময়মত যাননি। রাত সাড়ে ১১ টা থেকে সাড়ে ১২ টার মধ্যে ১ম স্ত্রী অনেক বিলম্বে রুহেল তালুকদারের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বাসার প্রধান ষ্টিলের দরজা বাহির থেকে তালা ছাড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে। দরজা খুলে স্ত্রী ঘরের ভেতর গিয়ে দেখেন রুহেল তালুকদারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত লাশ খাটের উপর সিলিং ফ্যানে রয়েছে। তিনি সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে লোকজনের সহায়তায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে ভর্তি করেন। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসক রুহেল তালুকদারকে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বলেন তিনি এখন আর জীবিত নেই। খবর পেয়ে সিলেট এয়ারপোর্ট থানার এসআই (উপ-মহাপরিদর্শক) নির্মল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেন। পরে রুহেল তালুকদারের লাশ হাসপাতাল মর্গে শনিবার ময়না তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। শনিবার বাদ আসর নয়াসড়ক জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা শেষে মানিকপীর গোরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। সাংবাদিক রুহেল তালুকদার স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করলেন না-কি তাকে বাধ্য করে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে কি-না এ নিয়ে সন্দেহের ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। রুহেল তালুকদার মৃত্যুর আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা আগে বড় স্ত্রী লোপার সঙ্গে কি ধরনের দোষারূপের কথা হয়েছে এবং রুহেল বাঁচতে গিয়ে কাকে তার কাছে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে সে অনুরোধটির সাড়া মেলেনি। রুহেলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার স্ত্রী বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান বাসার প্রধান দরজা বাহির দিক থেকে লাগানো। এ অবস্থায় তিনি বাসার ভেতর ঢুকে রুহেলকে উদ্ধার করেন। ঐ বাসায় রুহেলের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সঙ্গে সিসি ক্যামেরার সংযোগ ছিল। তার মৃত্যুর আগে সিসি ক্যামেরা বন্ধ পাওয়া গেছে বলে বাসায় একজন মহিলার উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। যে সিলিং ফ্যানে রুহেল তালুকদারের ঝুলন্ত লাশ ছিল সেই ফ্যানের সঙ্গে লোহার রড বাইপাস কাঠের ভীম ছিল। এই ভীমে একমন ওজনের ভর ধারণ ক্ষমতা প্রশ্নাতীত বলে জানা গেছে। এয়ারপোর্ট থানার উপ-মহাপরিদর্শক এসআই নির্মল এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটিকে সন্দেহ লক্ষ্য করার মতো। শনিবার ভোরে তার বাসায় গিয়ে রুহেলের ব্যবহৃত টাচ্্ মোবাইলটি তিনি উদ্ধার করে বিভিন্ন ফুটেজগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যদি নিহতের পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে ঘটনাটির আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান মোহাম্মদ সেলিম রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুহেল তালুকদার তার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। রুহেলের মৃত্যুর খবর জানতে পেয়ে তিনি শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে সিলেটের সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, রুহেলের জন্য যতটুকু সহযোগিতা দরকার তাই তিনি করে যাবেন। রুহেল তালুকদার দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন পূর্ব শ্রীরামপুরের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত নেপুর তালুকদার। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম