নাহিদ না শমসের- এখনো দ্বিধায় নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ৭:১১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০১৮

নাহিদ না শমসের- এখনো দ্বিধায় নেতাকর্মীরা

সোনালী সিলেট ডেস্ক রিপোর্ট ::: নুরুল ইসলাম নাহিদ না শমসের মবিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী, তা নিয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন জোটের নেতাকর্মীরাই। এখনো এই আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি মহাজোট। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরাও আছেন অনিশ্চয়তায়।

গত কয়েকদিন ধরেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) অবস্থান করছেন নাহিদ। জনসংযোগের পাশাপাশি দলের ভেতরকার দূরত্বও কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তিনি। শনিবারও গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মীসভা করে মান-অভিমান ভুলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে যুক্তফ্রন্টে যোগ দেওয়ার পর আর সিলেট আসেননি শমসের মবিন চৌধুরী। তবে এই আসনটি পেতে তাঁর দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

জোটের এই জটিল সমীকরণের কারণে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও। নিজের এলাকায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় তিনি এমনিতেই সঙ্কটে ছিলেন, তারওপর আওয়ামী লীগের জোটে যুক্তফ্রন্টের যুক্ত হওয়া এবং তাতে শমসের মবিনের হঠাৎ আবির্ভাবে আরও বিপাকে পড়েছেন নাহিদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দশবছরে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় নাহিদের। দলের ভেতরে দেখা দেয় কোন্দল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ক্ষুব্ধ নেতারা নাহিদের বিরুদ্ধে নেমেছেন। এছাড়া উন্নয়ন নিয়েও ওই এলাকার ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

দলের বিভক্তির কারণে এবার সিলেট-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগেরই মনোনয়ন চেয়েছেন দলটির ১২ নেতা। দলের এমন নাজুক অবস্থার মধ্যে শমসের মবিনের আবির্ভাবে ভোটের লড়াইয়ের আগেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে নাহিদকে।

তবে দীর্ঘকাল বিএনপি করে আসা সাবেক সচিব শমসের মবিনও নৌকা প্রতীক নিয়ে এসে কতটুকু সুবিধা করতে পারবেন এনিয়েও আলোচনা রয়েছে। ওই এলাকায় বাড়ি হলেও দীর্ঘকাল এলাকার সাথে যোগাযোগহীন শমসের। ভোটের সময়ে এসে এই দূরত্ব কতটুকু লাঘব করতে পারবেন তিনি তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এমনিতে এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৩ সাল ও ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় যুগ আসনটি বিএনপি, জাপা ও স্বতন্ত্রদের দখলে থাকলেও ১৯৯৬ সালে নুরুল ইসলাম নাহিদকে প্রার্থী করে তা উদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। এ ধারা অব্যাহত থাকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারে আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারবো না। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মনোনয়ন বোর্ড ও আমার দল আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। নেত্রী যা বলবেন সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ নিয়ে দুই-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে।’

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি জানিয়ে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আমি আশাবাদি। মনোনয়নের বিষয়ে পজিটিভ। এ নিয়ে অফিসিয়াল ঘোষণা পেতে দু’একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

নাহিদ ছাড়াও সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেনসহ ১২নেতা।

আর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- দলটির ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জাসাস কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ।

আর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নিবন্ধন বাতিল হওয়া রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামীর সিলেট দক্ষিণ জেলার আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানও প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন কিনেছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে কিনেছেন সিলেট-৫ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিন। জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ।

এ আসনে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯০৩ ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৬ পুরুষ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭ জন।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম