এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তির শঙ্কা নাহিদার

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০১৯

সোনালী সিলেট ডেস্ক ::: হবিগঞ্জের বানিয়াচং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছেন নাহিদা আক্তার। ভালো ফলাফলের জন্য স্বতস্ফুর্তভাবে হাসলেও দুশ্চিন্তার রেখা দেখা যায় তার মুখে। দুশ্চিন্তার কারণ একটাই। ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালানোর মত ক্ষমতা নেই তার পরিবারের।

নাহিদার মা সুহেনা বেগম বলেন, নাহিদার বাবা দিনমজুরের কাজ করে কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়ার খরচ যোগার করেছেন। এবার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে তিনি কি সিদ্ধান্ত নিবেন আমি জানি না। কলেজে পড়াতে ও অনেক খরচ। আমার আরো সন্তান আছে। তাদেরও লেখাপড়া করাতে হয়। সংসারের খরচ বহন করে পড়ালেখার খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই নাহিদার বাবার।

দারিদ্রতা আর নানা অসঙ্গতির সঙ্গে নিত্য লড়াই করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে নাহিদা। লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছা হার মানেনি দারিদ্রের কাছে। নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করেও জীবনে বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। মূল লক্ষ্য যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দারিদ্র দূর করে দুঃখী মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর। সে অনুযায়ী জীবনযুদ্ধে প্রথম ধাপে নেমে শত বাঁধা পেরিয়ে নাহিদা আক্তার দেখিয়েছে বিশেষ কৃতিত্ব।

বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের সাগর দিঘীর পূবপাড়ের লুৎফুর রহমান ও সুহেনা বেগমের মেয়ে নাহিদা। পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে নাহিদা সবার বড়। তার ছোট ভাই মশিউর রহমান স্থানীয় এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। মশিউরও পড়ালেখায় মেধাবী। তার অপর ভাই মাহবুবুর রহমান পার্শ্ববর্তী আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর সবচেয়ে ছোট ভাই সিদ্দিকুর রহমান সবেমাত্র একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে।

শত প্রতিকূলতা সত্তে¡ও নাহিদার পড়ালেখার একটুও ছেদ পড়েনি। তার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু চরম দারিদ্রতা তার সেই স্বপ্নপূরণের পথে বিশাল বাধা। এ বাধা ডিঙ্গিয়ে সেই স্বপ্নপূরণ হবে কিনা এখন সেই চিন্তাই সারাক্ষণ নাহিদার।

মেধাবী নাহিদা তার আগেও পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। নাহিদার বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। যখন যে কাজ পান সেটাই করেন তিনি। একদিন কাজে গেলে তিনদিন বসে থাকতে হয়। এ অবস্থায় তার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে তাদের। নাহিদা শহরের ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। নাহিদার এই ইচ্ছা পুরণ হবে কিনা জানেনা সে। নাকি অর্থের অভাবে থেমে যাবে তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন?

তাদের প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন মীর বলেন, মেয়েটি অত্যান্ত মেধাবী। খুব শান্তশিষ্ট মেয়ে নাহিদা। তার এই ফলাফলে এলাকাবাসী সবাই খুশি।

পুরাণবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, নাহিদা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। পড়ালেখায় ক্লাসের সবার চেয়ে সে সবসময় এগিয়ে থাকত। আমি দোয়া করব তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে যেন সে পৌঁছাতে পারে।

এই বিষয়ে নাহিদা বলে, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার এই সাফ্যল একার নয়। মা, বাবা, শিক্ষক, প্রতিবেশি সবার সহযোগিতায় আমি ভাল ফলাফল করতে পেরেছি। অনেক কষ্ট করে আমার পরিবার আমাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য ভালো কলেজে ভর্তি হতে চাই। সেই স্বপ্ন পুরণ করে আমার দারিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবো সেটা ই আমার লক্ষ্য। কিন্তু জানিনা কলেজে ভর্তি হতে পারবো কি না। কারণ শহরে ভালো কলেজে পড়ানোর ক্ষমতা আমার পরিবারের নেই।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম