ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে বিএনপিকে বারবার জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে : সরকারি দল

প্রকাশিত: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯

ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে বিএনপিকে বারবার জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে : সরকারি দল

সোনালী সিলেট ডেস্ক ::: রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে বিএনপিকে বারবার জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর এ আলোচনা শুরু হয়। ওই দিন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আ. স. ম ফিরোজ তা সমর্থন করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৪তম দিনে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন, আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুল মতিন খসরু, এ কে এম শাহজাহান কামাল, আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কাজী ফিরোজ রশীদ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, তারাই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে। জনগণের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক ছিল না। তাদের দ্বারা দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি সকলকে আহবান জানান।
প্রবাসীদের সেবায় দেশের বাইরে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত টাকায় দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তাদের সেবার মান অবশ্যই বাড়াতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষণ একটি ইতিহাস, ইতিহাসে তাঁর এই ভাষণ একটি দলিল হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর দেশে ৪ কোটি ১৩ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে, চাল উৎপাদনে এখন বাংলাদেশ চতুর্থ, সবজি ও মৎস উৎপাদনে তৃতীয়, দেশে আলুর প্রয়োজন ৭০ লাখ টন অথচ এ বছর আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টন, ৩০ লাখ টন আলু উদ্বৃত্ত।
মন্ত্রী বলেন, বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল, বিএনপির আমলসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট। আর এখন বিদ্যুতের উৎপাদন ২০ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গ্রামের মানুষও এখন বিদ্যুতের ব্যবহার করে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যাচার করে আমাদের গায়ে কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংকের প্রধান শ্যাকনামারা বলেছিল ‘বাংলাদেশ জনসংখ্যাধিক্যের কারণে হয়তো বিশ্বে স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকবে না। যদিও টিকে থাকে চিরদিন বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করে টিকে থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ অনেক উচ্চতায় উঠেছে। তিনি বিশ্বের সকল অর্থনীতিবিদদের সব অনুমানকে মিথ্যা প্রমানিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল নয়। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প আমরা নিজের টাকায় করতে পারি। বিশ্বব্যাংককে দেখিয়ে দিয়েছেন বলেই সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ অনেক উচ্চতায় উঠেছে।
তিনি বলেন, ভিক্ষুকের কোন মর্যাদা থাকে না, জাতিকে প্রধানমন্ত্রী মর্যাদা দিয়েছেন, অনন্য উচ্চতায় তিনি নিয়ে গেছেন। আগে ১৫ থেকে ২০ ভাগ বিদেশি সাহায্য দিয়ে বাজেট হতো, এখন বাজেটের মাত্র ২ ভাগ আসে বিদেশি সাহায্য থেকে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যেভাবে তাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করেছেন, এজন্য তাদের আদর্শ মা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, প্রায় দেড় ডজন পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য বিরল সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে। ভারতসহ প্রতিবেশি দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার অঙ্গিকারবদ্ধ। সংবিধানের বাইরে কোন পদক্ষেপ গ্রহণের দৃষ্টান্ত অতীতে ছিল না, বর্তমানেও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র। ধর্মীয় অনুভূতির কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সৌদি আরবের গুরুত্ব অত্যাধিক। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের এক সহযোগি বন্ধু। এছাড়াও পবিত্র মক্কা, মদিনার উপর যেকোন ধরনের হুমকি মোকাবেলায় সৌদি আরবের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে বাংলাদেশ অঙ্গিকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবে সৈন্য মোতায়েন সংক্রান্ত কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বরং বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে। যার মাধ্যমে দু’দেশে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, শিক্ষা, সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সরবরাহ রক্ষণাবেক্ষণসহ পরিদর্শন ও দক্ষতা বিনিময়, সামরিক চিকিৎসা ও গবেষণা, ক্রিড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিনোদন ও প্রযুক্তি বিষয়ক আলোচনা, সামরিক সুরক্ষা ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। এই সমঝোতা স্বাক্ষরের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা।
এ কে মোমেন বলেন, এই সমঝোতা স্বারকের আওতায় তৃতীয় কোন পক্ষের বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ না নেয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় উল্লেখ রয়েছে। সমঝোতা স্বারকের মাধ্যমে কোনভাবে সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বরং সংবিধানের এই অনুচ্ছেদকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধ পরিকর। যে কোন মূল্যে মাদক নির্মূল করা হবে। জঙ্গি সন্ত্রাসের মতো মাদকের আগ্রাসন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে রক্ষা করা হবে।
সরকার জনগণের জন্য টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র‌্যাবসহ সকল বাহিনীর উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে সরকার কাজ করছে। কারাগারে অতিরিক্ত আসামী কমাতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ২ কোটির কাছাকাছি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ইস্যু করা হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেইট করার মাধ্যমে উন্নত ইমিগ্রেশন সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জিয়াউর রহমান ৭৫-এর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দেশে বিদেশে পুনর্বাসিত করে তাদের সম্মানিত করে। রাজাকার, আল-বদরবাহিনীর সদস্যদের এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুলুন্ঠিত করার অপচেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়। তার ছেলে তারেক রহমান হাওয়া ভবন তৈরি করে দেশে দুর্নীতির রাম রাজত্ব কায়েম করে। তারা বাংলা ভাই, শায়েখ আব্দুর রহমানের সৃষ্টি করে দেশে জঙ্গিবাদ কায়েম করে। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামরা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে। ওই হামলায় নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ আগয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেলে গেছে, আর মতলববাজ, সুযোগ সন্ধানী ড. কামাল হোসেন তার জন্য মায়া কান্না করে। বিএনপির সময় বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান।
শেখ সেলিম বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে এপর্যন্ত যতগুলো হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে, এর পেছনে কারা জড়িত তা বের আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানান।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •