জৈন্তাপুরে কোয়ারীতে বিজিবি-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ৪ : সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৮

জৈন্তাপুরে কোয়ারীতে বিজিবি-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ৪ : সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদন
সিলেটের জৈন্তাপুরে আসামপাড়া আদর্শগ্রাম কোয়ারীতে বালু পাথর উত্তোলন করাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সাথে বিজিবি‘র সংঘর্র্ষে ৪ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিরা প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদসূত্র সূত্রে জানায়, জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র কোয়ারীশ্রীপুর আদর্শগ্রাম পাথর কোয়ারীতে বিভিন্ন গ্রুপে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মরত আছে। সোমবার দুপুর ১টায় প্রতদিনের ন্যায় ট্রাকে পাথর লোড করেত যায় বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম ইউনিটের শ্রমিকরা। পূর্ব কোন নোটিশ ছাড়া ৪৮ বিজিবি‘র শ্রীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সাধারণ শ্রমিকের উপর হামলা চালায়। এতে বিজিবির সদস্যদের লাঠির আঘাতে আহত হয় বেশ কয়েকজন শ্রমিক।
এসময় গুরুত্বর আহত হয় উপজেলার ডুলটিরপাড় গ্রামের মুমিনুল হক এর ছেলে আব্দুল হান্নান (৩০), আদশগ্রামের সৈয়দ মিয়ার ছেলে সাইফুল আলম (২৮), গুচ্ছগ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ বিলাল(২৯) ও আদর্শগ্রামের আব্দুর রব এর ছেলে মনজু মিয়া(২৯)। বর্তমানে আহতরা জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে, অন্যদের নাম জানা যায়নি।
হামলায় প্রায় ৫০টি বেলাচা ভাংচুর করে শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা। শ্রমিকের উপর বিজিবির হামলার খবর দ্রুত উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে আসামপাড়া আর্দশগ্রাম এলাকায় জড়ো হয় বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন রেজি নং-চট্ট-১৯০৯ এর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।
বিজিবির হামলার প্রতিবাদে সেমাবার দুপুর ২টায় আদর্শগ্রাম এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে হামলার ন্যায় বিচার দাবি শ্রীপুর ক্যাম্পের সদস্যদের অপসারণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানায় শ্রমিকরা।
তারা আরও বলেন- শান্তিপ্রিয় পাথর শ্রমিক দীর্ঘ দিন হতে পাথর লোড-আনলোড পেশায় কাজ করে যাচ্ছে। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে কখনো এই সংগঠনের অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। শ্রীপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা রাতে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত এলাকা হতে পাথর আহরনের সুযোগ করে দেয়। আমরা আমাদের ভূখন্ডে পাথর লোড করতে গেলে বিজিবি হামলা চালায়। আমরা সুষ্ট বিচারের দাবিতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করি। অবরোধের ফলে রাস্তার উভয় পাশে যাত্রীবাহী, মালবাহী সহ পর্যটকবাহী কয়েক হাজার গাড়ী আটকা পড়ে।
এদিকে অবরোধের ঘটনার সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার খরব পেলে বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রব, ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের জৈন্তাপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ নুরু মিয়া, সহ বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং এলাকার গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান ঘটনাস্থলে যান এবং আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসে ঘটনার সুষ্ট সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক হতে অবরোধ তুলেনেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুর এলাহী সম্রাট ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রব জানান, আমাদের সংগঠনের সদস্যরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এছাড়া আমার সংগঠনের সদস্যরা গর্ত হতে কিংবা সীমান্ত হতে বালু পাথর উত্তোলন করে না। তারা শুধুমাত্র ট্রাকে পাথর বোঝাইয়ের কাজ করে। বিজিবির এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং শ্রীপুর ক্যাম্পের সকল বিজিবি সদস্যদের প্রত্যাহার দাবি করেন ।একই সাথে আহতদের সুচিকিৎসা এবং তাদের বেলাচার তিপুরন দাবি করেন। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচী দেবেন। এজন্য সংগঠনের জরুরী বৈঠক আহবান করেছেন বরে জানান তিনি।
জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান বিজিবি কর্তৃক হামলার ও বেলচা ভাংচুরের ঘটনার বিষয় স্বীকার করে তিনি জানান, আমি নির্বাহী স্যারের আদেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করে সুষ্ট বিচার পাওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক হতে তাদের অবরোধ তুলে নেয়।
এবিষয়ে ৪৮ বিজিবির শ্রীপুর ক্যাম্পে মোবাইল ফোলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কেউ সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করেন নি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম