‘এই দুনিয়ায় যা কিছু দরকারি, সবাই মিলে বানিয়ে নিতে পারি’

প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০১৯

‘এই দুনিয়ায় যা কিছু দরকারি, সবাই মিলে বানিয়ে নিতে পারি’

সোনালী সিলেট ডেস্ক ::: ‘এই দুনিয়ায় যা কিছু দরকারি, সবাই মিলে বানিয়ে নিতে পারি’ এক ঘণ্টার নাটক দেখার পর এ কথাটি সত্যি মনে হবে সবার। যা খেতে চাও ইচ্ছে মতো খাওয়া যায়। যা দরকার দুই হাত ভরে নেওয়া যায়। কেউ দাম চায় না। চায় না বললে ভুল হবে। ‘দাম’ জিনিসটা কি সেটাই জানে না ওই রাজ্যের মানুষ।

এখানে দরকারি কাগজপত্র শৈল্পিক জিনিস রাখা হয় তালাবদ্ধ করে আর সোনাদানা, হীরা-জহরত রাখা হয় খোলামেলা থাকে। খেতে হলে ভোজনালয়ে যাও আর পোশাক পরতে হলে বস্ত্রালয়ে যাও। এরপরও কিছু দরকার হলে লাইব্রেরিতে যাও। লাইব্রেরিতে বইয়ের পাশাপাশি সবকিছু পাওয়া যায়। সব জায়গার সদর দরজা সব সময় খোলা থাকে। শুধু মাত্র লাইব্রেরির দরজা লাগানো হয় রাত দশটায়। কারণ ওই সময় দরজা না লাগালে মানুষজন আবার ঢুকে পরবে বই পড়তে। কি অদ্ভুত তাই না!

আরো অদ্ভুত লাগে যখন দেখা যায় সিঁদ কাটা বা চুরি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এ দেশের মানুষের। সোনার গয়নার চেয়ে সেখানকার মানুষের প্রিয় হচ্ছে ফুল গয়না। টাকা আর পয়সা সে তো আরো মূল্যহীন সে রাজ্যে। পয়সাকে তারা গোল গোল চ্যাপ্টা গয়না আর টাকাকে চিত্র আঁকা কাগজ মনে করে। এই দেশে নেই কোনো পুলিশ ফাঁড়ি বা জেল। নাটকটি দেখে যে কেউ চাইবে আমার দেশটা যেন এমন হয়।

রোববার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট আয়োজিত মহান একুশের চেতনায় নাট্য প্রদর্শনীর সপ্তম দিনে মঞ্চস্থ হয় দর্পণ থিয়েটার সিলেটের নাটক ‘হট্টমালার ওপারে’।

কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হওয়া এই নাটকটি কালজয়ী নাট্যকার বাদল সরকারের থার্ড থিয়েটার ফর্মের সিগনেচার পাণ্ডুলিপি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

নিজ দেশ হাটুয়া গ্রাম বা হট্টমালার ওপার থেকে চুরি করে মানুষজনের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় দুই সিঁধেল চোর কেনারাম আর বেচারাম। নদীতে সাঁতরে সাঁতরে একসময় তারা এসে পড়ে এপারের অচেনা এক রাজ্যে। এ রাজ্যেও প্রথম দর্শনে তারা অবাক হয়ে যায়। আলিশান বাড়ি, বাগান, ফোয়ারা আর পাকা রাস্তা। কারো কোনো অভাব, দুঃখ, কষ্ট নেই।

সিঁধেল চোর কেনা আর বেচা এসে পড়ে এপারের অচেনা এক রাজ্যে। কিন্তু এ তাদের ওপারের মতো চেনা হাটুয়া গ্রাম বা হট্টমালা নয়। ঝকঝকে তকতকে দেশটার দেখে তারা অবাক। সহজ সরল মানুষের এই দেশে হঠাৎ এসে পড়া দুই চোর নিজেদের চালাক ও তাদের বোকা মনে করে।

এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় এই আলাভোলা মানুষগুলোর সরলতার সুযোগে কিছু জিনিস চুরি করে পালিয়ে যাবে অন্য কোথাও। তাই স্টিলের প্লেট-গ্লাস চুরি করতে ভোজনালয়ের সিঁদ কাটে তারা। কিন্তু আশ্চর্য হলো, সিঁদ কেটে ধরা পড়েও তাদের কেউ চোর না বলে স্থাপত্য শিল্পী মনে করে। নিজ মুখে স্বীকার করার পরও তাদেরকে চোর বলে কেউ মানতে চায় না। কারণ এ দেশের মানুষ চোর বা চুরি সম্পর্কে জানে না। কেনাবেচা মনে করে চুরিতে ধরার পর তাদেরকে নিয়ে সবাই ঠাট্টা করছে। এরকম বিচিত্র ঘটনাবলীর মাধ্যমে কেনাবেচার জীবনে উন্মোচিত হয় নতুন এক অধ্যায়।

এভাবেই এগিয়ে যায় ‘হট্টমালার ওপারে’ নাটকে কাহিনী। এ রাজ্যের মানুষজন নিজেরা কাজের মধ্য দিয়েই নিজেদের জীবনমান উন্নত করে। যার যার সামর্থ্য মতো কাজ করে কিন্তু ভোগ করে সবাই সমানভাবে। বৈষম্যহীন এক সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখায় ‘হট্টমালার ওপারে’ নাটকটি।

বাদল সরকারের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন এজাজ আলম। পরবর্তীতে যৌথভাবে পুনর্নির্দেশনা দিয়েছেন নাহিদ পারভেজ বাবু ও সুপ্রিয় দেব শান্ত। নাটকটির কেনা ও বেচা দুই মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাটকটির নির্দেশক নাহিদ পারভেজ বাবু ও সুপ্রিয় দেব শান্ত।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অতনু দে, হাসনা আলম অমি, কানন চন্দ, শুভ বর্মণ পার্থ, সামান্তা ঘোষ, প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী সানি, রাহুল রাজ নাথ, এনামুল হক সামি, মল্লিকা চক্রবর্তী, জয়িতা জেহেন প্রিয়তী ও মহাশ্বেতা দেব পুরকায়স্থ শশী।

নাটকটির আবহ সংগীতে ছিলেন ঋষি মৃত্যুঞ্জয়, শান্তনু সেন তাপ্পু, গায়ত্রী ধর, মামুন পারভেজ, জ্যোর্তিময় ধর সৌরভ ও প্রপা ভট্টাচার্য্য।

আলো ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন হুমায়ুন কবির জুয়েল, আলোক প্রক্ষেপণে চম্পক সরকার, সহযোগিতায় তিথি খান ও বদরুল আলম, রূপসজ্জায় সুমন রায় ও পোশাক পরিকল্পনায় সোহেল আব্দুল্লাহ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম