আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে : ড. কামাল

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৮

আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে : ড. কামাল

আব্দুল খালিক
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতার মালিক দেশের জনগণ। সংবিধানে এর স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও আদতে এর মালিকানা জনগণের নেই। এ মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য দেশে সত্যিকারের নির্বাচন হতে হবে। দেশের মালিকানা ১৬ কোটি মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে ৭টি দাবী উত্থাপন করেছে সরকারকে সেই দাবীগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মালিকানা মানুষকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ঐক্যের প্রয়োজন। এটা দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশের মালিকানা ১৬ কোটি মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা আন্দোলনে নেমেছি। এর জন্য দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করেছি। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আবারো দেশের মালিক হব। সিলেটের এই সমাবেশ থেকে আজ সেই ঐক্যের সূচনা হলো।
নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচন, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম ব্যাবহার না করা, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে বুধবার দুপুর ২টায় সিলেটে এ সমাবেশ আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এসময় সমাবেশস্থল নগরীর রেজিস্ট্রারী মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। সমাবেশের সকল বক্তার কণ্ঠে ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপে ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রদানের আহ্বান।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিলেটবাসী অনেক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। আজ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু হলো। নতুন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, তফসিলের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনে ইভিএম চলবে না। ডিজিটাল চুরি করতে দেওয়া হবে না। আমাদের ল উন্নয়নধর্মী রাষ্ট্র গঠন করা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যমত নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি ও স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব বলেন, দেশটা ডাকাতের হাতে পড়েছে। দেশকে বাঁচাতে হলে জনগণকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকার বিভিন্নভাবে উস্কানি দেবে, তাদের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করে বলেন, দেশ এখন গভীর সংকটে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ ঠেকাতে আজ সিলেটের সকল পথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বাস, টেম্পু থেকে নেতাকর্মীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও জনগণের জোয়ার থামানো যায়নি। তিনি বলেন, এবার আর একদলীয় নির্বাচন করা যাবে না। ওয়াকওভারের স্বপ্ন সফল হবে না। ওয়াকওভার নিয়ে মতায় কেউ থাকতে পারবে না। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সাথে কথা বলেন। কথা না বললে কিভাবে মতা থেকে নামাতে হয়, তা দেখবেন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু ও আমান উল্লাহ আমান, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকতউল্লাহ বুলু।
উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামিম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামার হায়দার, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, এলডিপির মহাসচিব ডা. রেদোয়ান আহমদ, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তফা আমীন, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, জেএসডির নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ কেন্দ্রীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে সামনে রেখে দুপুর ১টার থেকে মিছিলসহকারে বিএনপি নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রারি মাঠে জড়ো হতে থাকেন। আড়াইটার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন সামান্য আহত হন। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাঠে। নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করলে মঞ্চ থেকে নেতারা মাইকে পুলিশকে লাঠিচার্জ না করার আহ্বান জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সমাবেশকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমাবেশস্থলসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি করা হয়।
বুধবার ভোরে সিলেট পৌঁছে মাজার জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম