বাংলাদেশ যতটুকু উজ্জ্বল হয়েছে, সেটাকে অন্ধকার করা যাবে না : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন আর ঝুপড়ি নেই, এ দেশ এখন আলোর ঝলমলের দেশ। বাংলাদেশ যতটুকু উজ্জ্বল হয়েছে সেটাকে অন্ধকার করা যাবে না।’
তিনি আজ শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এক সমাবেশে একথা বলেন। উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। এর আগে তিনি সদর উপজেলার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা ছিলো। এটা নিয়ে সরকার বেশি কাজ করেছে। আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। বিদ্যুতের উৎপাদন ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সারা দেশে এখন বিদ্যুতের সংকট নেই। পুরো দেশ বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে। মানুষের জীবনমান এখন উন্নয়ন হয়েছে। ফলে উৎপাদনও বেড়েছে।’
‘মানুষের মঙ্গলের সুযোগ করে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে’ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দশ বছরে শেখ হাসিনা ঘোষিত সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজগুলো পূরণ করতে এবং সরকারের উন্নয়ন ও জনবান্ধব উদ্যোগকে আরো তরান্বিত করতে জনগণের ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পরিচালক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আকবর হোসেন, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।
অর্থমন্ত্রী নিজের অতীত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজনীতি ও জীবনের স্বপ্নের কথা বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘একসময় দেখতাম বাংলাদেশে চারিদিকে হাহাকার, দারিদ্রতা, মানুষের আর্তনাদ। এসব দেখে অনেক কষ্ট পেতাম। আমার জীবনের স্বপ্ন ছিলো সুযোগ পেলে এসকল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কিছু করব। আমার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। আমার জীবনের অবসরকালীন সময়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সুবাদে এটা সম্ভব হয়েছে। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে সফল হয়েছি। এজন্য আমি তৃপ্ত এবং আনন্দিত।’
তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একটি দেশপ্রেমিক সরকার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি বলে এসকল কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাই আমি আমার সংসদীয় আসনের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ।’
দেশের দারিদ্রতার হার হ্রাস প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ সালে বাংলাদেশে দারিদ্রতার হার ছিলো ৫৮ শতাংশ। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে তা এখন ২২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী পাঁচ বছর সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সেটা ১০শতাংশে নেমে আসবে। ১০ শতাংশ যারা দরিদ্র থাকবে তাদের মধ্যে শারিরিক প্রতিবন্ধী, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বিধবাসহ বিভিন্নশ্রেণির মানুষ। যাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনির আওতায় সবধরণের সহযোগিতা পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে। উন্নত দেশগুলোতেও এরকম ব্যবস্থা রয়েছে।’
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সিলেটের সমন্বয়ক ও বিআরডিটিআই এর উপপরিচালক মো. গোলাম ছারুয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও এসডিএফ এর পরিচালক সৈয়দ এপতার হোসেন পিয়ার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এএস মহসীন, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আফছর আহমদ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুফলভোগী সদস্য মাসুম আহমদ ও শিরিন আক্তার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিলেট ব্যুরো প্রধান মকসুদ আহমদ মকসুদ, সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনফর আলী, মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলাল প্রমুখ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম