করমর্দন আর হাসিমুখে আলাপচারিতার পরই পারষ্পরিক বিষেদাগার

প্রকাশিত: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

করমর্দন আর হাসিমুখে আলাপচারিতার পরই পারষ্পরিক বিষেদাগার

সোনালী সিলেট ডেস্ক :::মঙ্গলবার দুপুর। নয়াসড়কের গির্জা। বড়দিনের উৎসব চলছে। সেই উৎসবে শরীক হতে গির্জায় গিয়ে হাজির হন সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুল মোমেনও হাজির খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের এই উপাসনালয়ে।

দেখা হতেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নিজেদের মধ্যে করমর্দন করেন। হাসিমুখে আলাপচারিতাও করেন কিছুক্ষণ। এরপর দুজন মিলে বড়দিনের কেকও কাটেন। এমন সম্প্রীতিকে করতালি দিয়ে স্বাগতও জানান উপস্থিতরা। এই সম্প্রীতির দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যেও ছবি তোলার ধুম পড়ে যায়।

তবে এমন হাসিখুশি আলাপচারিতার পরই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগারে মেতে উঠেন দুই প্রার্থী।

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তো এই হাসিখুশি আলাপচারিতাকে ‘মেকি সম্প্রীতি হিসেবেই অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে ছবি তুলাকে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বলতে পারেন। তবে এই সৌহার্দ্য অত্যন্ত মেকি। এতে আন্তরিকতা নেই। গত তিনরাতে এসএমপির পাঁচ থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। আমার শতশত নেতাকর্মী আসামী।

দুই প্রার্থীর আলাপচারিতা প্রসঙ্গে মুক্তাদির বলেন, আমাকে উনি (মোমেন) জিজ্ঞেস করলেন, ক্যাম্পেইন ভালো চলছে কী না? জবাবে আমি বলি, ক্যাম্পেইন করছি, সাথেসাথে আপনাদের মামলাগুলোও মোকাবিলাও করছি। তখন তিনি বলেন, মামলা হচ্ছে কেবল ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে। এসময় একজন বিএনপি নেতা এসে তাঁর (মোমেনের) সাথে করমর্দন করেন। তখন আমি উনাকে বলি, আপনি এখন যার সাথে করমর্দন করলেন তিনিও একজন ক্রিমিনাল। তার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

মুক্তাদির বলেন, এভাবে তারা সকল বিরোধী নেতাকর্মীদের ক্রিমিনাল মনে করে। জনগণকেও ক্রিমিনাল মনে করে। নানা মামলা-হামলা সত্ত্বেও জনগণ আমাদের সাথে আছে। এতে ভয় পেয়েই তারা এরকম আচরণ করছে। তবু ৩০ তারিখের ভোটে আমাদের বিজয় অনিবার্য।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুল মোমেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের দপ্তর, আমাদের মাইক ভেঙ্গেছে। প্রচার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ভেঙ্গেছে। তবু আমরা আমাদের সকল সমর্থকদের একটাই কথা বলেছি, তারা (বিএনপি) কষ্টে আছেন। তারা ভাবছেন নিশ্চিত পরাজিত হয়ে গেছেন। তাই হিংসা থেকে এসব করছেন। তবে তাদের হিংসার বিরুদ্ধে সহিংসতা দেখাচ্ছি না। আমাদের সমর্থকরাও এই হিংসার বিরুদ্ধে কোনোধরণের একশন নেয় নি। আমরা কেবল পুলিশকে জানিয়েছি। নিরাপত্তাবাহিনী তাদের কাজ করবে। আমরা পুলিশকে কোনো প্রভাবিত করছি না।

মোমেন বলেন, এখানে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীও নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোথাও কোনো বাধাগ্রস্ত আমাদের দ্বারা হচ্ছে না। কিন্তু তাদের মজ্জাগত অভ্যাস নালিশ করা। তাদের নেত্রীও এটা করেন। গত সিটি নির্বাচনেও এটি করেছিলেন। তবু তখন তারা জয় পান। আমি জানি না এটি তাদের কৌশল কী না, এরমাধ্যমে তারা কিছু জনসমর্থন পান কি না। তবে আমরা এসবে নেই। আমরা সবসময় সাদাকে সাদা ও কালাকে কালা বলি।

তিনি বলেন, দল ও আমাদের নেত্রী একটি স্বচ্ছ সুন্দর আদর্শ নির্বাচন করতে চান। আমাদেরকেও তিনি বলেছেন, মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য। তাই আমরা কোনো বিদ্বেষ চাই না। কোনো ধরণের হিংসা চাই না।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম