মৈত্রী সেতু ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২১

মৈত্রী সেতু ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াবে : প্রধানমন্ত্রী

সোনালী সিলেট ডেস্ক
ভারতের সীমান্তে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুরে মৈত্রী সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দিল্লি থেকে একইভাবে যুক্ত হন।

রাজনৈতিক সীমানা যেন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাধা না হয় এমন মন্তব্য করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ফেনী নদী। সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে আরও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সেতুর মাধ্যমে সরাসরি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে ত্রিপুরা। ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানিশ চন্দ্র আগারভাগ ইনপাকন প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮২.৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রামগড়ের মহামুনিতে ২৮৬ একর জমির ওপর ‘মৈত্রী সেতু’ নির্মিত হয়েছে।

সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক বাধা হতে পারে না। রাজনৈতিক সীমানা যেন দুই দেশের মধ্যে বাধা না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু বন্ধুত্বের বন্ধন নয় বরং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ত্রিপুরাবাসী ব্যবহার করতে পারবেন। তাই আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং জনগণকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
মৈত্রী সেতু শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, নেপাল, ভুটানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যকে আরও সহজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১০ সালে ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ফেনী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করার প্রস্তাব রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনুরোধটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করি। তারপর থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় পক্ষকে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করে আসছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, ১০ বছর পর আজকে এই সেতুটি একটি বাস্তবতা। এই সেতু উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য একটি বাণিজ্য লাইফলাইন হবে। আপনারা সবাই জানেন পণ্য পরিবহনের জন্য এরইমধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনী সেতু চালুর মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বের ল্যান্ডলকড রাজ্যগুলো বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারে। আগে ১৬০০ কিলোমিটার দূরে আগরতলার নিকটতম সমুদ্রবন্দর ছিল কলকাতা। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে আগরতলার নিকটতম সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম।

শেখ হাসিনা বলেন, সন্দেহাতীতভাবে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভারতকে কানেকটিভিটি দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন যুগের সৃষ্টি করেছে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো ব্যবসার ক্ষেত্রে ভৌত বাধা হওয়া উচিত নয়।

এদিকে মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে করোনা প্রসঙ্গে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর গ্রীষ্মে করোনা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, তাই এ বছর এই আশঙ্কা থেকে মানুষকে আগের মতো সচেতন থাকার জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য গত বছরের গ্রীষ্মকালের অভিজ্ঞতায় তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর তিনটি নির্দেশনার মধ্যে প্রথমত রয়েছে, যে যেখানেই থাকেন না কেন, করোনার টিকা নেন বা না নেন, সবাই যেন অবশ্যই মাস্ক পরেন। দ্বিতীয়ত, যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং তৃতীয়ত, জনসমাগম যেখানে হচ্ছে, সেখানে যেন নির্ধারিতসংখ্যক মানুষ থাকে। কারও যেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি যেন ঠিকমতো মানা হয়।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আসছে রমজানে প্রয়োজনীয় ছয়টি পণ্যের যথেষ্ট মজুদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তেল, চিনি, ছোলা, মশুর ডাল, খেজুর, পেঁয়াজ- এই ছয়টি পণ্য টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করতে হবে।’

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •