সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে পালিয়েছিলেন আকবর

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে পালিয়েছিলেন আকবর

সোনালী সিলেট ডেস্ক
সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে পালিয়েছিলেন বলে জনতার কাছে স্বীকার করেন সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ নিহতের প্রধান অভিযুক্ত ফাঁড়ির আইসি এসআই আকবর। স্থানীয়দের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পালিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তা উল্লেখ করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

 

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আকবরকে বলতে শোনা যায়, আমি একা মারিনি। পাঁচ-ছয়জন মারছিল। এজন্যে মরে গেছে। আমারে তারে হাসপাতালে পাঠাইছি।

 

তুমি কেন পালিয়ে গেলে স্থানীয়দের এমন প্রশ্নের জবাবে বহিস্কৃত এসআই আকবর ভুঁইয়া বলেন, ‘সাসপেন্ড করছে, এরেস্ট হতে পারি।’

 

আকবর বলেন, ‘আমাকে সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছিল, তুমি আপাতত চলে যাও, কয়মাস পরে আইসো। দুইমাস পরে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার সব হ্যান্ডেল করা যাবে।’

 

তবে কারা এমনটি বলেছিলেন বা কার নির্দেশে তিনি পালিয়ে যান এসম্পর্কে কিছু বলেননি।

 

এসময় ভিডিওতে দেখা যায়, আকবরের হাত-পা বাঁধতে বাঁধতে যুবকরা বলছেন- মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সে মানুষকে মেরে ফেলেছে। ওই যে ইন্টারনেটে ভিডিও ছাড়ছে। রায়হান নাম। নিজের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি আকবর বলেন। তখন স্থানীয় আলী আকবর বলেও তাকে ডাকতে দেখা যায়।

 

ওই যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ অবাঙালীদের মতো কথা বলেন, যা অনেকটা কলকাতার বাংলা ভাষার মতো শোনায়। তবে, তাদের কথা শুনে ভারতের খাসিয়া আদিবাসী হতে পারেন এমন মন্তব্য করেন স্থানীয় জনতা।

 

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

 

পিবিআই এঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি। এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম