গলায় পুঁতির মালা পরেও শেষ রক্ষা হয়নি আকবরের

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

গলায় পুঁতির মালা পরেও শেষ রক্ষা হয়নি আকবরের

আব্দুল খালিক
গ্রেপ্তার এড়াতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আলোচিত আইসি এসআই আকবর। দেশের কোনো শহর বা শহরতলীর আশ্রয়ে না গিয়ে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লিতে বসবাস শুরু করেন তিনি। অপরাধী হিসেবে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের কারণে তিনি যেকোন সময় জনতার হাতে আটক হতে পারেন, এমন ভয় থেকেই মূলত খাসিয়া পল্লিতে আশ্রয় নেন আকবর। তাছাড়া, সীমান্ত এলাকা থেকে সহজে ওপারে পাড়ি জমানোর জন্যও তিনি এই জায়গাটি বেছে নিয়েছিলেন। আর অপেক্ষায় ছিলেন সময় ও সুযোগের।

 

গ্রেপ্তার বা জনতার হাতে আটকের বিষয়টি এড়ানোর জন্য আকবর ছদ্মবেশও ধরেন। তিনি অনেকটা খাসিয়া পল্লিতে বসবাসকারীদের মতো সাজগোজ করতে শুরু করেন। এমনকি আসল চেহারা লোকানোর জন্য মুখে দাড়ি ও গলায় পুঁতির মালাও পরিধান করেন। কোমরে ঝুলান নাইলনের রশি। চলাফেরাও করেন খাসিয়াদের মতো। কিন্তু কিছুতেই শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে সোমবার দুপুরের দিকে খাসিয়ারা তাকে আটক করে হাত পা বেঁধে বাংলাদেশে হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে, গ্রেপ্তারের সময় আকবর আগ বাড়িয়ে পুলিশকে নিজের পরিচয় দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। যদিও আকবর সীমান্ত অতিক্রমে জোর চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে সময় সুযোগ বাতলিয়ে দেওয়ার জন্য নিজস্ব সোর্সও তৈরি রাখেন। কিন্তু কাজে লাগেনি তার কোনো কৌশল। কারণ, সেখানে ছিল কড়া নজরদারি। ফলে খাসিয়া পল্লীতে তাকে থাকতে হয়েছে বেশ কিছুদিন।

 

সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক সাইফুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এদিকে, এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে আটকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জনতার হাতে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে আকবরকে ক্রন্দনরত অবস্থায় করজোড় করে জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে আটক নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেট দুনিয়ার বাসিন্দারা। অনেকেই এমন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য স্থানীয় জনতাকে ধন্য দেন। সেই সাথে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

 

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

 

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

 

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম