রায়হান হত্যা : প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

রায়হান হত্যা : প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর গ্রেপ্তার

সোনালী সিলেট ডেস্ক
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে কানাইঘাট উপজেলার ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

১৯ বিজিবি’র অধিনায়ক লে: কর্নেল রফিকুল ইসলাম পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, ভারতের শিলচর এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী এসআই আকবরকে আটক করেন। এরপর রহিম নামের এক বাংলাদেশীর কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।

 

তবে, আকবরকে পুলিশ বা বিজিবি গ্রেপ্তার করেনি, জনতা করেছে। তাই এই কৃতিত্ব প্রশাসনের নয় জনতার এমন প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, আকবরকে আটকের একটি ভিডিও ও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জনতার হাতে আটক হন রায়হান হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় করজোড় করে জনতার কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।

 

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

 

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

 

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

 

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম