নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হবিগঞ্জ আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গণ্যে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নবীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে নবীগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হলে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি রাতেই এফআইআর গণ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের এক নারী মামলার বিবরণে বলেন, তিনি গত ৮ অক্টোবর বিকালে রিকশাযোগে শেরপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পারকুল গ্রামের মেম্বার দুলাল মিয়ার বাড়ির সামনে আসা মাত্র আসামিগণ তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একটি অজ্ঞাতস্থানে তিনদিন আটক করে আসামিগণ তাকে ধর্ষণ করেন। ৪ দিন পরে আসামিগণ স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে সামনে সিএনজি অটোরিকশা থেকে তাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে তার স্বামী এসে তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান।

 

এই ধর্ষণ মামলার আসামিরা হচ্ছেন- উপজেলার আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন (৫০) ও তার পরিষদের সদস্য দুলাল আহমদ (৪০), সেবুল মিয়া (২৮), সহিদুল মিয়া (২৫), জিবু মিয়াসহ (২৭) অজ্ঞাত ৩ জন ।

 

নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক হবিগঞ্জ জেলা দায়রা ও জেলা জজ মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরী গত ১৮ অক্টোবর, নালিশকারীর দরখাস্ত ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে নির্দেশে তিনি বলেন, নালিশের অভিযোগ অপরাধ যোগ্য, তাই নবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জকে মামলা এফআইআর করার নির্দেশ দেন এবং তিন কার্য দিবসের মধ্যে মামলা রুজু করে প্রতিবেদন অত্র ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

 

এদিকে মামলা বাদীর স্বামী অভিযোগ করেন, মামলার সাক্ষীদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে, সাক্ষীদের হুমকি ধমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে এফিডেভিড করার চেষ্টা করছেন। তাকে মামলা তোলার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

 

তিনি আরও জানান, তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়াতে, তাদের লোকজন দিয়ে আমাকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আমি আমার নিজ বাড়িতে যাওয়ার মত সাহস পাচ্ছি না।

 

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, আমি শুনেছি একটি নারী নির্যাতন মামলা করেছে । এ ব্যাপারে বিস্তারিত আমি কিছুই জানি না।

 

ইউপি সদস্য দুলাল আহমদ বলেন, এই রকম ঘৃণিত কাজের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে মিথ্যা মামলা জড়ানো হচ্ছে।

 

নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি আদালতের আদেশে প্রক্রিয়াধীন আছে। আজ রাতেই এফআইআর গণ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম