যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ

সোনালী সিলেট ডেস্ক
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সফররত উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগানের সঙ্গে ঢাকায় এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। তারপর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেয়া হয়।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দণ্ডিত পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। খুনিদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছেন।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই হত্যাকারীদের আবাসভূমি হতে পারে না। তাদের অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি দেখছেন।’

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভিসার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্র অর্থনীতি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

 

শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

 

ব্রিফিংয়ে বিগান বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অব্যাহত সহায়তা দিয়ে যাবে।

 

‘এখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ এটা শুধু বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়, এটি বৈশ্বিক অগ্রাধিকার,’ বলেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করার ওপর জোর দেন মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

ড. মোমেন জানান, আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেনি।

 

এক প্রসঙ্গে ‘আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের চোখ দিয়ে দেখে’ এমন কথা উড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকা বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে দেখে।’

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং আমেরিকার সম্পর্ক দিন দিন সুদৃঢ় হচ্ছে। এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

 

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক হয়।

 

এদিকে, সকালে ধানমন্ডির-৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস বুকে তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

 

এর আগে ভারতের নয়াদিল্লিতে তিনদিনের সফর শেষে বুধবার বিকেলে ঢাকা পৌঁছান মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম