রায়হান হত্যা : দিনভর তদন্ত চালিয়েছে পিবিআই

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

রায়হান হত্যা : দিনভর তদন্ত চালিয়েছে পিবিআই

সোনালী সিলেট ডেস্ক
ছিনতাইকারী নাটক সাজিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্র্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে রায়হান উদ্দিন নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে তদন্তভার পাওয়ার পর শুরুতেই আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে প্রবেশ করে তদন্ত দল। এর পর প্রায় ২ ঘণ্টা বন্দর ফাঁড়িতে অবস্থানের পর তদন্ত দলটি কাষ্টঘর এলাকায় প্রবেশ করে।

 

সেখানে নিহত রায়হানকে গ্রেপ্তারের সময় প্রত্যক্ষদর্শী সুরাইলালের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত দলটি। এরপর স্থানীয় ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত দল।

 

এরপর সন্ধ্যা ৬ টা ৩৫ মিনিটে তদন্ত দলটি রায়হানের বাসা আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকায় যায়। এসময় রায়হানের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন তারা।

 

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে পিবিআই’তে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়।

 

প্রসঙ্গত, গত রোববার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হান উদ্দিন মারা যান। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান।

 

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

 

এদিকে নিহত রায়হানের লাশ ফের কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রিট।

 

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

 

সাময়িক বরখাস্ত চার পুলিশ সদস্য হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। আর প্রত্যাহার তিন পুলিশ সদস্য হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

 

এ ঘটনায় এসএমপি গঠিত তদন্ত কমিটি জানতে পারে, রোববার রাত ৩টায় আহত অবস্থায় রায়হানকে উদ্ধার করে সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এনে রাখে পুলিশ। আহত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির হাজতে রাখা হয় এবং আইনগত কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী বলেন, রোববার (১১ অক্টোবর) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে আখালিয়া এলাকার রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

 

কমিটির প্রধান করা হয় এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আলম মামুনকে। কমিটিতে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ও এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রভাষ চন্দ্রকে সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নেয় এসএমপি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম