গণধর্ষণ মামলা : সাইফুর-অর্জুন ৫ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

গণধর্ষণ মামলা : সাইফুর-অর্জুন ৫ দিনের রিমান্ডে

ফাইল ছবি


সোনালী সিলেট ডেস্ক
সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহধূকে গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাইফুর ও আরেক আসামি অর্জুন লস্করের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার এ দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি খোকন কুমার দত্ত। তবে আসামি পক্ষের কোন আইনজীবী ছিলো না। এর আগে সোমবার দুপুর ১১ টা ৫১ মিনিটে তাদেরকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

 

এদিকে মামলার অপর আসামি রবিউল ইসলামকে বিকেলে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। আলোচিত এ মামলায় এই তিনজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

এছাড়া আটক বাকি তিনজন মাহমুদুর রহমান রনি, অজ্ঞাত রাজন ও আইনুলকে র‌্যাব হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তাদেরকে কখন থানায় হস্তান্তর করা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানায়নি র‌্যাব।

 

এর আগে রোববার সকালে সাইফুরকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে পৃথক এক অভিযানে একই দিন সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা থেকে অর্জুন লস্করকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুর রহমান বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাই পাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাহমিদ মিয়ার ছেলে আর অর্জুন জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম গ্রামের কানু লস্করের ছেলে।

 

এছাড়া রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব আর নবীগঞ্জ থেকে রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

 

গ্রেপ্তারকৃত শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি হবিগঞ্জ সদর থানার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আর রবিউল ইসলাম (২৫) সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন বড়নগদীপুর (জাগদল) গ্রামের বাসিন্দা।

 

অন্যদিকে রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯। এ সময় রাজনকে সহযোগিতায় করায় আইনুল নামের আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাজন গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার অজ্ঞাত আসামি ছিল বলে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

 

গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ মোট ৯জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই গৃহবধূর স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

 

পরে রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ। এসময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আর আদালত গৃহবধূ জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম