আলোচিত রায়হান হত্যার দুই বছর
৪৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২২

<span style='color:#C90D0D;font-size:19px;'>আলোচিত রায়হান হত্যার দুই বছর </span> <br/> ৪৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে

রুহুল আমীন তালুকদার :: সিলেটের বহুল আলোচিত কোতোয়ালী মডেল থানার অধিন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এসআই আকবরের নির্যাতনে রায়হান আহমদ নামের যুবকের নিহতের ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। এরইমধ্যে আলোচিত এই হত্যা মামলার ৪৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর দিবাগত (১১ অক্টোবর) রাতে সিলেট মহানগরীর আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমেদকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখেন সেই সময়ের ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য।

পরে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না চাওয়ায় এসআই আকবরের নেতৃত্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা নির্মমভাবে রায়হানকে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের ফলে ১১ অক্টোবর সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রায়হান। ঘটনার পরদিন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি মামলা করেন।

এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ওই বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২১ সালের ৫ মে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

এতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান আসামি করা হয়। অন্যরা হলেন- এএসআই আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। নোমান এখনো পলাতক।

মামলার তদন্ত শেষে ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটে যুক্ত ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চিকিৎসকরা মত দিয়ে বলেছেন, রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই চার্জশিট আমলে নিয়ে গত বছরের ১৮ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত।

অভিযোগ গঠনের পর রায়হানের স্ত্রী, মা, পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৪৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে মামলার আসামি বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল হারুন অর রশিদ অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেনছিলেন। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

এদিকে, কারাগারে থেকেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত- এক সময়ের সিলেটি নাটকের অভিনেতা, পুলিশের (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া। সে নিহত রায়হানের মা, বউ ও সন্তানের দায়িত্ব নিতে চায়। আকবরের এমন প্রস্তাবে স্তম্ভিত হন রায়হানের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

গত বছর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার তদন্তকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেকে নেওয়া হয় তাকে ও রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি এবং তার চাচা হাবিবুল্লাহকে। এসময় রায়হানের মা ও তার স্ত্রীকে সামনে না নিলেও তার চাচার মুখোমুখি করা হয় আকবর ও অপর আসামিদের। তখন পায়ে ধরে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা প্রার্থনা করে এসআই আকবর ও অভিযুক্ত আশেকে এলাহীসহ অন্যন্যরা। অনেকক্ষণ পায়ে ধরে বসেছিলো তারা।

সে ঘটনার পর এসআই আকবরের মা-বাবা সিলেটে এসে রায়হানের এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করে আপসের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে রায়হানের পরিবার।

জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) রায়হান হত্যার দুই বছর পূর্তিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হবে না। তবে কুরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার আখালিয়া এলাকার কিছু গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এমন ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

রায়হানের মা সালমা বেগম সোমবার রাতে বলেন- কিছু বাধ্যবাধকতায় আজ কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করবো না আমরা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কুরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও দুদিনের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

ছেলের কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন সালমা বেগম। ধরা গলায় বলেন- খুনীদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমার রায়হানের আত্মা ও আমরা শান্তি পাবো না।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম