জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন
সুনামগঞ্জে মান্নান ও ডন বলয়ের লড়াই

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২২

<span style='color:#C90D0D;font-size:19px;'>জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন</span> <br/> সুনামগঞ্জে মান্নান ও ডন বলয়ের লড়াই

রুহুল আমীন তালুকদার : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে দেখা দিয়েছে দু’টি বলয়ে বিভক্ত। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন (মান্নান বলয়ের সমর্থিত) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা (আজিজুস সামাদ ডন বলয়ের) প্রার্থী হিসেবে উপজেলার সর্বত্রজূড়ে সাধারণ মামুনষের মাঝে আলোচনা বিরাজ করছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই দুই নেতার আশীর্বাদপুষ্ট দুই স্থানীয় নেতা চেয়ারম্যান পদে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও এই দুই প্রার্থী নির্বাচনী লড়াই করে হেরেছিলেন। জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির আতাউর রহমান।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। এই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়েন প্রয়াত জাতীয় নেতা সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন। এরপর থেকে স্থানীয় প্রায় সকল নির্বাচনে এই দুই বলয়ের (মান্নান ও ডন বলয়ের) দুই প্রার্থী প্রদ্বিন্দ্বিতা করে আসছেন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মান্নানের সমর্থক হিসাবে পরিচিত আকমল হোসেন। স্থানীয়ভাবে আজিজুস সামাদ আজাদের ¯েœহভাজন হিসাবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা লড়েন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। আকমল ভোট পেয়েছিলেন প্রায় ২৫ হাজার ১৯৮ এবং মুক্তা পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ভোট। দুইজনই পরাজিত হন। জেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি আতাউর রহমান ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এবার বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও আতাউর রহমান স্বতন্ত্র লড়ছেন। নির্বাচনে অন্য দুই প্রার্থীর একজন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সমর্থিত প্রার্থী তালহা আলম, অন্যজন আব্বাস চৌধুরী লিটন।
আওয়ামী লীগের ভোটাররা এই নির্বাচনেও দ্বিধাবিভক্ত। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার নাম প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানোর জন্য জেলা কমিটির কাছে গিয়েছিল। পরে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এই পাঁচজনের সঙ্গে আরও দুজনের নাম যুক্ত করে সাত মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা হয় বলে দলের একটি সূত্র নিশ্চিত করে। এরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু রঞ্জন ধর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন রাশিদ, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মাস্টার এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সাবিনা সুলতানা।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয় আকমল হোসেনকে। আকমল হোসেনকে মেনে নিতে পারেন নি ডন বলয়ের অনেকেই। এই বলয়ের নেতা মুক্তাদীর আহমদ শেষ দিনে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলেছেন, আবারও লড়াই হবে আওয়ামী লীগে- আওয়ামী লীগে অর্থাৎ মান্নান ও ডন সমর্থকদের মধ্যে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বললেন, মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকেই ঘরোয়া আলোচনা শুরু হয়েছে আমার। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একা একা হেঁটেই প্রায় ১৪ হাজার ভোট পেয়েছি। এবার দলের অনেকেই আমাকে সাহস দিচ্ছেন। যেহেতু বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। আশা করছি দল প্রার্থীতা নিয়ে কঠোর হবে না। আমি জগন্নাথপুরের দীর্ঘদিনের প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত রাখতে চাই। দলের নেতা কর্মীরাও এজন্যই আমাকে সহযোগিতা করবেন।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেন বললেন, কোন বলয় নয়, আওয়ামী লীগের সকল নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ, নৌকার পক্ষেই থাকবেন। আমি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ভোটাররা আমাকে বঞ্চিত করবেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বললেন, মনোনয়ন আমিও চেয়েছি, পাইনি, যিনি পেয়েছেন তার পক্ষে রাজধানী থেকে ফিরেই সভা ডেকেছি। দল করলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই প্রার্থীর পক্ষে ডাকা কর্মী সভায় আসেননি। যারা আসেননি, তারাও নৌকার পক্ষেই প্রচারণায় থাকবেন আশা করছি। মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার প্রার্থীতার বিষয়ে রেজাউল করিম রিজু বললেন, গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগেই মুক্তা দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। সাম্প্রতিককালে তিনি দলের কাজে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারের কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি। তিনি দাবি করলেন, দলে কোন বলয় নেই, সকলেই দলীয় পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম