গোলাপগঞ্জে ‘সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষককে নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

গোলাপগঞ্জে ‘সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষককে নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

সোনালী সিলেট ডেস্ক
গোলাপগঞ্জের বাঘায় ‘সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দকে নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি মহল নগদ অর্থ দিয়ে অনলাইন পোর্টালে এই শিক্ষককে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে তাঁর মানহানীর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সেই সাথে এসব ভ্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুণœ করছে মহলটি।

 

বাবু কৃপাময় চন্দ্র চন্দকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করায় সোমবার বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ‘একটি মহল ‘সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়’র সফলতা ও প্রধান শিক্ষকের স্বার্থকতার উপর ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

 

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপাময় চন্দ্র চন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যা খুব দুঃখজনক। তারা সংবাদে বলছে যে, সালাম মকবুল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক আফসানা বেগমকে এমপিওভুক্ত করতে আমি টালবাহানা করেছি এবং আমার কারণেই আফসানা বেগম এমপিওভুক্ত হননি- যা সম্পুর্ণ মিথ্যা।’

 

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়টি জুনিয়র এমপিওভুক্ত থাকাকালীন সময়ে ২০১০ সালে আফসানা বেগমকে সরকারি বিধিমোতাবেক সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগের শর্ত ছিল যে, বিদ্যালয়টি সিনিয়র এমপিওভুক্ত হলে তাকেও এমপিওভুক্ত করা হবে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি সিনিয়র এমপিওভুক্ত হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ও সমাজবিজ্ঞান পদে মাত্র একটি পোস্ট থাকায় আফসানা বেগমকে উক্ত পদে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। কেননা, উক্ত পদে আগে থেকেই একজন এমপিওভুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে শুধু শিক্ষক আফসানা বেগম শুধু নয়, দেশের অসংখ্য স্কুলের শিক্ষকরাও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।’

 

কৃপাময় বলেন, ‘২০১৪ সালে আবুল হোসেনের জায়গায় উনাকে এমপিওভুক্ত করতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি ছলছাতুরীর আশ্রয় নিয়েছি বলে সংবাদে যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

 

বিষয়টি খোলাসা করে বলতে গিয়ে ওই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বিদ্যালয়টি জুনিয়র এমপিওভুক্ত থাকাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক ওয়াজির আহমদ সুবেল স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্যে গমণ করেন। এতে এই পদটি শূন্য হয়ে যায়। তখন শূন্য পদ পূরণ করতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। যেই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে শুন্যপদেই নিয়োগ পান আবুল হোসেন।’

 

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ‘আফসানা বেগম যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড সনদ গ্রহণ করেছেন সেটা দিয়েও ২০১২ সালের পর থেকে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা দেখা দেয়। আফসানা বেগম দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন, যেটা তখনকার সময় সার্টিফিকেট বাণিজ্যের কারণে সরকার অবৈধ ঘোষণা করে।’

 

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে উৎকোঁচ নেওয়ার যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে তা অস্বীকার করে কৃপাময় চন্দ্র বলেন, ‘ শিক্ষক নিয়োগে আমি কারো কাছ থেকে অর্থগ্রহণ করেছি যদি কেউ এমনটি প্রমাণ করতে পারেন, আমি তাকে পুরস্কৃত করবো।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ তে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছি। আমি আমার আদর্শে কখনও কলঙ্ক লাগতে দেব না। যারা আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তারাও একদিন আমার জন্য কাঁদবে। কারণ, আমি কারো ক্ষতি করিনি। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। সব সময় ভালোটা করার চেষ্টা করেছি। কীভাবে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করা যায় সেই পথেই হেটেছি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম