কোম্পানীগঞ্জে পাথর ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জরুরী সভা

প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

কোম্পানীগঞ্জে পাথর ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জরুরী সভা

মো. মঈন উদ্দিন মিলন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে
সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী সচলের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সম্প্রতি বৃহত্তর সিলেট পাথর ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পরামর্শে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন সিলেট পাথর ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক কোম্পানীগঞ্জ স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুন নূর।

 

অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন- বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন নূর, মতিউর রহমান, আলমগীর আলম, গিয়াস উদ্দিন, জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর, আমির উদ্দিন, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন মিলন, বুলবুল আহমদ, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম, রিয়াজ উদ্দিন প্রমূখ।

 

সভায় সবাই সবার অবস্থান থেকে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী সচল ও সংশ্লিষ্ট পাথর ব্যবসা সচল করণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সবধরনের সহযোগিতায় অংশগ্রহণে উজ্জীবিত হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করেন। পাশাপাশি আগামী ২৫ আগস্ট সিলেটের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে হোটেল পলাশে আলোচনা সভা সফল করতে সকলের উপস্থিতি কামনা করেন।

 

উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি সিলেটের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি। খনিজ সম্পদে ভরপূর এই পাথর সম্রাজ্য থেকে পাথর আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় করে কোম্পানীগঞ্জ তথা দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লক্ষ শ্রমিকের রুটি রুজির ব্যবস্থা হতো। এমনটি চলে আসছে কয়েকযুগ ধরে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই পাথর কোয়ারির উপর ভরসা করেই চলেছে শ্রমিকদের জীবন। তাছাড়া ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি হতে সরকারি কোষাগারে জমা হতো বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনায় আজ সেই পাথর কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন পাথর উত্তোলন ও বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষ।

 

জানা যায়, এই কোয়ারির পাথর উত্তোলনের ধারাবাহিকতায় কালের পরিক্রমায় দেশের বিভিন্ন জেলাসহ উপজেলায় বিনিয়োগী হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নিজেকে জড়িয়েছেন পাথর ব্যবসায়। কাজ না জানা অনেকেই এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বেশ সাবলম্বীও হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে স্টোন ক্রাশার। যার ফলে আবাসনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বেগ পোহাতে হয়নি মালিকদের। বিদ্যুৎ গতিতে বাড়তে থাকে আবাসন। সেই সাথে দেশের প্রধান শহর ও শহরতলীতে গড়ে ওঠে বাণিজ্যিক ভবন। নির্মিত হয় শিক্ষা ভবনও। পূরণ হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে ভোলাগঞ্জের পাথর। এমনটি মনে করেন উপজেলার সচেতন মহল।

 

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগেই কোয়ারিতে বহিরাগত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের আনাগোনায় বাজারঘাটসহ সবধরনের ব্যবসায় ছিল জমজমাট অবস্থা। একসময় যদিও সনাতন পদ্ধতিতে কোয়ারি সচল ছিল, পরে কিছু অসাধু চক্রের কারণে সেটি আবার অচল হয়ে পড়ে। ওই চক্র বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পরিবেশ বাঁচাতে তৎপর হয় পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা। তারা বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে আইনীভাবে লড়তে আদালতে মামলা দায়ের করে। মূলত, ওই মামলার প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট সিলেটের সবকটি কোয়ারিতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে। ফলশ্রæতিতে কর্মহীন হয়ে পড়ে কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত শ্রমিকরা। এমনকি, কোয়ারি এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাবু গেড়ে থাকা শ্রমিকদের। নিরূপায় হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রিয় কর্মস্থল ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় পাড়ি জমান তারা।

 

এদিকে, কর্মহীন শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ। তিনি শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি সচল রাখার নির্দেশ দেন। গত শুকনো মৌসুমে সনাতন পদ্ধতিতে যথারীতি কোয়ারি সচল ছিল। কিন্তুকোয়ারির পার ধ্বসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ফের কোম্পানীগঞ্জ প্রশাসন ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন সরকার যে রাজস্ব পেতো তাও বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে আজ প্রায় দীর্ঘ ৭/৮ মাস যাবৎ শ্রমিক ব্যবসায়ী সবাই বেকারত্ব জীবন পার করছেন। এমন পরিস্থতিতে কোম্পানীগঞ্জের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা মানবেতর দিনযাপন করছেন।

 

সিলেটের পাথর উত্তোলনসহ ব্যবসা বাণিজ্য স্তবির হওয়ায় গোটা সিলেটে কয়েক লক্ষাধিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সিলেটের সকল সাংবাদিকদের লিখনীতে ফুটিয়ে তোলা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম