দেখার যেনো কেউ নেই
ছাতক শহরে মাদক বিক্রি ও অসামাজিকতার ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

<span style='color:#C90D0D;font-size:19px;'>দেখার যেনো কেউ নেই</span> <br/> ছাতক শহরে মাদক বিক্রি ও অসামাজিকতার ছড়াছড়ি

ছাতক সংবাদদাতা
ছাতকে মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর পরই এসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা মাদকদ্রব্য বেচা-কেনায় সক্রিয় হয়ে উঠে। শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে অনেকটা খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। বিগত দিনে যারা এসব মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল তারাই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পুরোনো মাদক ব্যবসা নতুন করে আবারো শুরু করেছে।

 

এ ছাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদিনই বসছে জুয়ার আসর। শহরের কয়েকটি এলাকায় নিয়মিত চলছে পতিতাবৃতি। এসব দেখার যেনো কেউ নেই। দিন দিন লাগামহীন হয়ে পড়ছে অপরাধীরা। তবে, কিছুদিন আগেও এই অপরাধীরা কোনঠাসা ছিল। মোস্তফা কামাল ছাতক থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু সা¤প্রতিক করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগায় অপরাধীরা। বৈশ্বিক এই মহামারি নিয়ে যখন মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তখন এসব অপরাধীরা তাদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রসারিত করে সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে চুরি ও ছিনতাইর মতো ঘটনা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের অপরাধমুলক কর্মকান্ড অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ডুগলা বাড়ির সুশিল শব্দকর ও নকুল শব্দকর মদ ও এছাড়া বাবুল মিয়ার পুত্র কালো সোহেল ও তাতিকোনা গ্রামের ফরহাদ মিয়া মদ ও গাঁজা ব্যবসার সাথে জড়িত। শহরের প্রধান সড়কের একটু আড়ালে হওয়ায় তারা অনেকটা নিরাপদে মদ-গাঁজার ব্যবসা করে যাচ্ছে। সুশিল শব্দকরের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। ইতিমধ্যেই কয়েকবার কারাবাসও করেছে সে।

 

এ ছাড়া শহরের শহীদ মিনারের পিছনে, রেল কলোনী, লাফার্জ ফেরী ঘাট, সিমেন্ট কারখানার ৪ নং এলাকা, নোয়ারাই বাজার, নোয়ারাই-ইসলামপুর, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, মাছ হাটা, লাকি কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্পটে ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে।

 

এসব মাদক ব্যবসায়ীরা নিজে বা সহযোগিদের মাধ্যমে মাদক দ্রব্য গন্তব্যে পৌছে দেয়। ছোরাব নগর এলাকাসহ শহরের তিনটি স্পটে চলছে পতিতাবৃতি। দিবা-রাত্রি অনেকটা ওপেনভাবেই এসব মিনি পতিতালয় চলছে। ভদ্রবেশী ও স্হানীয় লোকজন এসব মিনি পতিতালয়ে আনা-গোনা করতে দেখা গেছে। বিনা প্রতিবন্ধকতায় এখানে পতিতাবৃতি পরিচালনা করছে কতিপয় পরিচিত দালাল। এতে যুব সমাজের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটছে। সাবেক লাকি সেন্টারের পেছনে একটি টিন সেডের ঘরে এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকার ভেতর দিকে অপর একটি কক্ষে প্রতিদিনই বসে বড় রকমের জুয়ার আসর।

 

বাসস্ট্যান্ড এলাকার এ কক্ষে ভারতীয় তীর খেলার আসর বসে বলে জানা গেছে। কতিপয় যুবক এ জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে। এখনই এসব অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে এখানের আইন-শৃঙ্ঘলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশংকা করছেন সূধীমহল।

 

এ ব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ছাতকে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলছে ও থাকবে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে তিনি সব সময়ই সক্রিয় রয়েছেন। সব ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট। কোন পুলিশ সদস্য এসবের সাথে জড়িত নয়।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম