রোনালদোর জোড়া গোলেও বাঁচতে পারেনি জুভেন্টাস

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

রোনালদোর জোড়া গোলেও বাঁচতে পারেনি জুভেন্টাস

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম লেগে জুভেন্টাসকে চমকে দিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল লিওঁ। দ্বিতীয় লেগের ১২ মিনিটের মাথায় যখন পেনাল্টি পেয়ে যায় লিওঁ, তখন সত্যিই অঘটনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জুভেন্টাসের ত্রাতা হয়ে এসেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের বরপুত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে এবং দ্বিতীয়ার্ধের পনের মিনিটের মাথায় বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে নেওয়া রকেটগতির শটে জুভেন্টাসকে একাই টাইয়ে সমতায় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও জয়সূচক গোলটি আর খুঁজে পায়নি বিয়াঙ্কোনেরিরা। রোনালদোকেও আর সঙ্গ দিতে পারেনি কেউ। লিঁও কাছে হেরে সিরি আ চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই।

 

শুক্রবার রাতে ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে লিঁওকে ২-১ গোলে হারিয়েও হতাশায় বসে পড়তে হয়েছে ইতালিয়ান জায়ান্টদের। দুই লেগ মিলিয়ে সমান ২-২ গোল হলেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফরাসী ক্লাব লিঁও।

 

৯ মিনিটে রেফারির বাজে সিদ্ধান্তে ভুগতে হয় জুভেন্টাসকে। বক্সের ভেতর জুভেন্টাস ডিফেন্ডার বেন্টাকুর পা সামান্য স্পর্শ করেছিল আউয়ার হিলে। অতি সাধারণ এই শরীর স্পর্শেই পেনাল্টি ডেকে বসেন রেফারি ফেলিক্স জাওয়ার। পেনাল্টি থেকে মেম্ফিস ডিপের গোলে এগিয়ে যায় লিঁও।

 

পরের রাউন্ডে যেতে হলে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জিততেই হতো জুভেন্টাস। এই অবস্থায় বিতর্কিত সিদ্ধান্তে পিছিয়ে গিয়ে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। একের পর এক আক্রমণে চলে গোল আদায়ের চেষ্টা।

 

১৭ মিনিটে ফেডেরিকো বার্নার্ডেস্কি ডানপ্রান্ত দিয়ে তিনজনকে কাটিয়ে ঢুকে যান বক্সে, গোলকিপারকেও পেরিয়ে গিয়েছিলেন। তার নেওয়া নিশ্চিত গোলমুখি শট লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফার্নান্দো মার্কল।

 

পরের মিনিটে রোনালদোর হেড বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৩৯ মিনিটে সমতায় আসতে পারত জুভরা। রোনালদোর দারুণ ফ্রি কিক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসম্ভব ক্ষীপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন লিঁওর গোলকিপার এন্তনি লোপেজ।

 

পরের মিনিটে একই জায়গায় আবার ফ্রি কিক পায় জুভেন্টাস। এবার রোনালদোর নেওয়া শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় ইতালিয়ান জায়ান্ট। যদিও হাত দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর অংশ সুরক্ষা করতে গিয়েছিলেন ডিপে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো।

 

বিরতির পর প্রথম কয়েক মিনিট তাল পাচ্ছিল না কোন দল। বেশ কয়েক মিনিট উদ্দেশ্যহীন খেলার পর আসে কাঙ্খিত মুহূর্ত। ৬০ মিনিটে ডান পাশে বক্সের বাইরে বল পেয়ে বা পায়ের আড়াআড়ি আচমকা শট মেরে তাক লাগিয়ে দেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদো। ম্যাচে প্রথমবার এগিয়ে যান তুরিনের ওল্ড লেডিরা। আশা ফের জেগে উঠে তাদের।

 

এরপর আরও এক গোলের অনেক কাছেও গিয়েছিল ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ৬৮ মিনিটে রোনালদোর ক্রস হেডে বারের উপরে পাঠান হিগুয়েইন। ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তার জোরালো হেডও অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

 

অন্তিম সময়ে বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক কাজে লাগাতে পারেননি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বরাবরের সফল তারকা রোনালদো। ম্যাচ জিতলেও শেষ বাঁশি বাজতে হতাশায় মাথা নুয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম