হবিগঞ্জে শালী-দুলাভাই’র অবৈধ সম্পর্কের বলি ছলেমা : ঘাতকদের দায় স্বীকার

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

হবিগঞ্জে শালী-দুলাভাই’র অবৈধ সম্পর্কের বলি ছলেমা : ঘাতকদের দায় স্বীকার

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শালী-দুলাভাইর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছলেমা বেগম। নিজের মেয়ে ও জামাতাকে বার বার বারণ করার পরও তারা আড়ালে আবডালে হর হামেশা এমন দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার দিনও তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় নিজেদের বাঁচাতে তারা ছলেমাকে গলা কেটে হত্যা করে। অবশেষে শেষ রেক্ষা হয়নি তাদের, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়ে শান্তি বেগম ও জামাতা মোগল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। উদঘাটন করে হত্যার মূল রহস্য। এ ব্যাপারে তারা হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

 

বুধবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ সুপার জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও গ্রামের হিরন মিয়ার বড় মেয়ে জেসমিন আক্তারকে মোগল মিয়ার সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক বছর পর জেসমিন আক্তার জিবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যায়।

 

এ সুযোগে মোগল মিয়া তার শালিকা শান্তি বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। একাধিকবার তারা দুইজন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক সময় তাদের শারীরিক সম্পর্ক চলাকালে নিহত ছলেমা বেগম (মোগল মিয়ার শ্বাশুড়ি ও শান্তি বেগমের মা) দেখে ফেলেন।

 

এ সময় মেয়ে ও জামাতার মান সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে দুজনকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন, আর যাতে তারা কোনদিন অনৈতিক কাজ না করে । কিন্তু এরপরও তাদের অবৈধ মেলামেশা চলতে থাকে।

 

ঘটনার দিন (১ আগস্ট) ঈদের রাতে তারা আবারও অবৈধ মেলামেশা করতে থাকে। ছলেমা বেগম তাদেরকে দেখে চিৎকার করেন। এ সময় জামাতা মোগল মিয়া ও ছোট মেয়ে শান্তি বেগম মিলে ছলেমা বেগমের মুখ চেপে ধরে ঘরে থাকা দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

 

তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মোগল মিয়া নিজ ঘরে গিয়ে রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে ঘুমিয়ে যান এবং শান্তি বেগম ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করতে থাকেন। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তিনি জানান তার মাকে ডাকাতদল গলা কেটে হত্যা করেছে।

 

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী হিরন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুই ঘাতকসহ চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ঘটনার পরপরই নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের এসএসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর নের্তৃত্বে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতকদের আটক করেন। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় শিকার করে।

 

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনের রহস্য উদঘাটন করায় পুলিশ প্রশাসেন প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্থানীয় লোকজন।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম