দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করল ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করল ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা

কমলগঞ্জ সংবাদদাতা
কোনো কারণ ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই চা বাগান বন্ধের ঘোষণার প্রতিবাদে দু’দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা।

 

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এ অবস্থান কর্মসূচির শেষদিন। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ অবস্থান কর্মসূচির প্রথমদিন পালন করা হয়েছে।

 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল আযহার আগে চা শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে আকস্মিকভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে চা বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ছয়শ চা শ্রমিক।

 

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে আকস্মিকভাবে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কারখানার অফিসে নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধলই চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করে। ধলই চা বাগান কোম্পানির উপ-মহা ব্যবস্থাপক এম এম ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ অফিসের বোর্ডে টাঙিয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

চা শ্রমিক খোদেজা বেগম বলেন, ঈদের ঠিক আগে মজুরি পেয়ে সন্তানের জন্য কিছু ভালো খাবার কিনবো ভেবেছিলাম। কিন্তু তা হলো না। কারণ ঈদের আগে মজুরি না দিয়ে চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এখন আমাদের খাবারেও খুব কষ্টভোগ করতে হবে।

 

চা-বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গৌরাঙ্গ নায়েক বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাওয়া দাবি নিয়ে ব্যবস্থাপক সাহেবের সাথে দেন দরবার চলছিল । শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ব্যবস্থাপক সাহেব দমন-পীড়ন শুরু করেন । এক পর্যায়ে শ্রমিকরা ব্যবস্থাপক সাহেবের অপসারণ দাবি করেন। এই দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শ্রমিক আন্দোলন নস্যাৎ করতে ধলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩ ধারার সম্পূর্ণ অপ প্রয়োগ করে চা বাগান বন্ধ করেন ।

 

ধলই চা-বাগানের পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক সেতু রায় বলেন, করোনা মহামারিকালে চা বাগান কর্তৃপক্ষের এই বেআইনি, একতরফা এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি । অবিলম্বে শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করে চা বাগান বন্ধের বেআইনি নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি । সেই সাথে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনের অপপ্রয়োগ রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি ।

 

ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, চা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুনীতি বিষয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় নিয়ে কয়েক-দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তা বলতে গেলেই ব্যবস্থাপক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

 

কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, এ ঘটনায় চা বাগানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অফিসের সম্মুখে কমলগঞ্জ থানার এক প্লাটুন পুলিশ অবস্থান করছে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, আজ বুধবার আমরা সকল পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করবো।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম