তৃতীয় দফায় বন্যার মুখে সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

তৃতীয় দফায় বন্যার মুখে সুনামগঞ্জ

ছবি : সংগৃহীত


সোনালী সিলেট ডেস্ক
গত কয়েক পানি কমতে শুরু করলেও রবিবার থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে পানি। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, রক্তি, পুরাতন সুরমা,খাসিয়ারামারা, চলতি, চেলাই নদীসহ সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশংকা করেছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। খবর ঢাকা ট্রিবিউনের। সোমবার (২০ জুলাই) সুনামগঞ্জ থেকে হিমাদ্রি শেখর ভদ্র’র লেখা প্রতিবেদনটি অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করে ট্রিবিউন।

 

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এর উপরে তৃতীয় দফায় বন্যার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ৭২ ঘন্টায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও রবিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দুর্গত এলাকার বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করলেও সোমবার সকাল থেকে পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, “মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উজানে ও সুনামগঞ্জ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি অব্যহত থাকলে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে বন্যা প্রলম্বিত হবে। রবিবার থেকে ফের বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। একই সাথে মেঘালয় বেসিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তাই নদীরপানি বেড়ে আবার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” গত ২৪ ঘণ্টায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

এদিকে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরপর দুই দফা বন্যায় জেলার ২৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম বলেন, “বন্যায় জেলার প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সড়ক এবং অর্ধশতাধিক সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোর মধ্যে ২২ টি ওয়াশ আউট হয়ে গেছে। বন্যার কারণে শুধুমাত্র এলজিইডি খাতেই খতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।”

 

পানি নামতে শুরু করলে সংস্কার কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, দুই দফা বন্যায় তিন হাজার পুকুরের মাছের পোনা ও রেনু ভেসে গেছে। বন্যার পানির প্রবল ঢলে অসংখ্য পুকুরের পাড় ভেঙ্গে গেছে। এতে ছয় শতাধিক মাছের খামারি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বন্যায় মৎস্য খাতে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 3.5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম