আশার বাণী শোনালো সওজ
সংস্কার অভাবে ধলাইসেতুতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

<span style='color:#C90D0D;font-size:19px;'>আশার বাণী শোনালো সওজ</span> <br/> সংস্কার অভাবে ধলাইসেতুতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মো. মঈন উদ্দিন মিলন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে
সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু ধলাই সেতু। পাথর বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১২ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম। এই সেতুর মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেষা তিনটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের উপজেলা ও জেলা শহরের সাতে সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। এছাড়া, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য্য অবলোকন ও উৎমা ছড়া পর্যটন স্পটে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি।

 

এই সেতু ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য। মূল ভ‚মিকায় রয়েছে উপজেলার পাথর সম্রাজ্য। এই উপজেলার পাথর সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হয়ে আসছে বহু আগে থেকেই। একটা সময় এই পাথর বহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌযান। লঞ্চ কিংবা স্টিমারে করেই এখানকার পাথর সরবরাহ করতেন ব্যবসায়ীরা। ধীরে ধীরে পাথর ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে। চাহিদা বাড়তে থাকে দেশের সর্বত্র। তখন দেশের নাম করা অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জেই আসতেন পাথর ক্রয় করতে। কিন্তু তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো পাথর বহনের কথা ভেবে। কারণ, এই পাথর নদী পথে বহন করে নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত পৌছা অসম্ভব ছিল। নদীর পারে পাথর রেখে আবারও মালবাহী যানের প্রয়োজন দেখা দিতো। এতে করে পাথরের মূল্য দাঁড়াতো অনেক উপরে। সব মিলিয়ে পাথরের বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় নিয়েই আলোচনায় আসে সেতু নির্মাণের কথাটি।

 

ধলাই সেতুর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন যখন প্রকট, তখন বিষয়টি নজরে আসে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। টানা তিন বছর কাজ চলার পর সেতুটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয় ৭৫ বছর। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতুটি প্রকল্পে ‘ধলাই সেতু’ নামে উল্লেখ থাকলেও উদ্বোধনকালে নামকরণ করা হয় ‘এম সাইফুর রহমান সেতু’ নামে। পরে সেতুর কর্তৃত্ব এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজতর হয়।

 

সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেতুর মধ্যবর্তী একটি অংশে ঢালাই খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে রড। উভয় দিকের কয়েকটি স্থানে রেলিং ভেঙে গেছে। দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও ভেঙে পড়ছে। আর এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

 

অবশ্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশল বিভাগ সেতুর এ অবস্থার জন্য পাথরবাহী ট্রাক চলাচলকে দায়ী করেছেন।

 

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটি যথাযথভাবে দেখভাল করেনি সংশ্লিষ্টরা। সেতুটির মালিকানা নিয়ে সওজ-এলজিইডির রশি টানাটানিতে দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি সেতু।

 

এদিকে, ২০১৪ সালে ধলাই সেতুর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ধলাই সেতু পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখে ঝুঁকি কাটাতে অচিরেই ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর সওজের উদ্যোগে ধলাই সেতুর ত্রুটি সারানোর প্রায় ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আর সেতুর আর মেরামত হয়নি।

 

পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়া জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এই ধলাই সেতু। এই সেতু দিয়েই পূর্ব ও উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি ধলাই নদের পূর্বপাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রেখেছে এই সেতু। অদৃশ্য কারণে এখনও সেতুটির ত্রæটি সারিয়ে তোলা হয়নি। দ্রুত সেতুটি সংস্কারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

 

ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, শিগগিরই সেতুর মেরামত কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি স্থানীয় সাংসদ ইমরান আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন তিনি এবং নির্বাহী প্রকৌশলী গত বৃহস্পতিবার সেতু পরিদর্শন করেছেন।

 

সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, সেতুটি দ্রæত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্টিল প্লেট দিয়ে ক্ষতস্থান ঢেকে দেওয়া হবে। যাতে করে নির্বিঘেœ যানবাহন চলাচল করতে পারে। তবে, খুব শীঘ্রই এর প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে। এ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এদিকে সংকটাপন্ন ব্রিজ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ধলাইপূর্বপারের লক্ষাধিক মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি অবিলম্বে সংস্কারের মাধ্যমে সেতুটির প্রাণ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতনমহল।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম