ফখরুলের সাত দফা সুপারিশের জবাবে কাদের
করোনাকালে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বিএনপি

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

<span style='color:#C90D0D;font-size:19px;'>ফখরুলের সাত দফা সুপারিশের জবাবে কাদের</span> <br/> করোনাকালে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বিএনপি

ফাইল ছবি : ওবায়দুল কাদের


সোনালী সিলেট ডেস্ক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির পক্ষ থেকে যে সাত দফা সুপারিশ করেছেন সরকার করোনায় সৃষ্ট সংকট উত্তরণে তার চেয়ে অনেক বেশি সুসমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় প্রত্যেকটি পর্যায় বিচার-বিশ্লেষণ করে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নির্দিষ্ট কোনো দফায় সীমাবদ্ধ না থেকে সবরকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে।’

 

রবিবার (১৪ জুন) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত বার্তায় এসব কথা বলা হয়।

 

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার দল বিএনপি এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তা জাতীয় মেমোরিতে দীর্ঘদিন ক্ষতের চিহ্ন বহন করবে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সমালোচনার নামে সরকারের সমালোচনাই বিএনপির একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুপারিশের নামে সরকারের বিরুদ্ধাচার করার যে অপচেষ্টা করেছেন তার যোক্তিক কোনো ভিত্তি নেই বরং তা উস্কানিমূলক। তার মন্তব্য সর্বৈব মিথ্যা, বাস্তবতা বিবর্জিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপির সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দক্ষতায় করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কাজ করে চলেছে।’

 

কাদের বলেন, ‘সাধারণ ছুটির শুরু থেকেই পেশাদার বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন ঘোষণা করে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সম্মুখ যোদ্ধাদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেনি। এসকল সম্মুখ যোদ্ধার পাশাপাশি বিএনপির নেতৃবৃন্দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সুরক্ষা সামগ্রীর প্রয়োজন পড়লে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তা প্রদান করা হবে।’

 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রত্যেক জেলায় করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা দ্রুত সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলামের উত্থাপিত দাবির অনেক আগে থেকেই সরকার সারাদেশে করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের কাজ করে চলেছে। এবারের বাজেটে এর জন্য আলাদা বরাদ্দও রাখা হয়েছে। করোনার বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক খাতগুলোর জন্য ১৯টি প্যাকেজের মাধ্যমে এক লাখ তিন হাজার ১১৭ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, করোনা দুর্যোগের এই সময়ে একজন মানুষও খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে রেশন কার্ডের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও ৫০ লাখ বাড়িয়ে এক কোটিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা দুর্যোগের এই সময়ে প্রান্তিক-গরিব-অসহায়-দুস্থ মানুষের কল্যাণে এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি ত্রাণ ও অর্থ বিতরণে অনিয়মে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ দলীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ ও অর্থ বিতরণে অনিয়মে জড়িত বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ পরিলক্ষিত হয়নি।’

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ উত্থাপনের চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো তথ্য গোপনের রাজনীতি করে না। করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকট একটি বৈশি^ক সমস্যা। এটি জাতীয় বা সরকারের গৃহীত নীতির ফলে উদ্ভূত কোনো সমস্যা নয়। সুতরাং এটা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই ভাইরাস প্রার্দুভাবের শুরু থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে সকল তথ্য ও স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস ও জনগণের সচেতনতার দূর্গই ছিল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের মূল অস্ত্র। পরম করুণাময় আমাদের সহায় হোন। জয় আমাদের হবেই, ইনশাল্লাহ।’

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম