করোনাভাইরাস : সিলেটে বন্দির মৃত্যু, কারাগার জুড়ে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

করোনাভাইরাস : সিলেটে বন্দির মৃত্যু, কারাগার জুড়ে আতঙ্ক

সোনালী সিলেট ডেস্ক
করোনাভাইরাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আর এ নিয়ে গোটা কারাগার জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও ওই বন্দির রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর পরই সে যে ওয়ার্ডে থাকতো সেই ওয়ার্ডটি লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে ৮৬ জন বন্দিকে চারটি ওয়ার্ডে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া কারাগারের আরও ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা রয়েছে।

 

তবুও কারাগারে করোনা সংক্রমণ ও আক্রান্ত বাড়তে পারে এমন আতঙ্কে রয়েছেন বন্দিরা। এর একটা কারণ জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, মরে যাওয়া বন্দির রিপোর্ট পজিটিভ আসার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও তার সংস্পর্শে আসা অন্য কারো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। এতে করে কারাগারে বাড়ছে আতঙ্ক। সেই সাথে করোনা ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

তারা জানান, সেই ব্যক্তির রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর সবাইকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এতেই কমছে না করোনা ঝুঁকি। কারণ রিপোর্ট পজিটিভ আসার তিনদিন পরও সংস্পর্শে আসাদের নমুনা পরীক্ষা না করায় কারাগারে অভ্যন্তরে সবাই ভয়ে আছেন। এছাড়া দায়িত্বপালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আছেন ঝুঁকির মধ্যে। সবাই বলছেন, যদি অন্য কারো মধ্যে করোনাভাইরাস থেকে থাকে তাহলে কারাগারে দ্রুতই সেটি ছড়িয়ে পড়বে। এতে করে কারাগারের অভ্যন্তরের অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে। সেজন্য দ্রুত পরীক্ষা করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

 

তবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, করোনা পজিটিভ সেই বন্দির সংস্পর্শে আসাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলেছি। আর বর্তমানে কারো মধ্যে উপসর্গ না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

 

উপসর্গ ছাড়াই তো রোগী পাওয়া যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহ করে এখন কোন লাভ নাই। কারণ আমরা আজ (মঙ্গলবার) যে নমুনাগুলো পরীক্ষা করেছি সেগুলো ৫ তারিখের। এখন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা না গেলে তো সংগ্রহ করে লাভ নেই।

 

আর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)’র কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেছেন, নমুনা সংগ্রহ করার বিষয়ে জেলার ও সিভিল সার্জন বলতে পারবেন। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ আমার সাথে এ নিয়ে কথা হয়নি। তবে সিভিল সার্জন আমাকে জানিয়েছিলেন, কারা কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি কথা বলেছেন। এবং তিনি সবকিছু দেখছেন। তবে পরীক্ষা দ্রুত করা দরকার। সেজন্য জেলার বলতে পারবেন কার পরীক্ষা করা দরকার। এরপর সিভিল সার্জন লোক পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন।

 

তবে এ বিষয়ে জানার জন্য সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

 

আর সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার মো. আবদুল জলিল বলেছেন, আমরা সর্বমোট ১১০ জনের তালিকা করেছি। এই তালিকা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে পর্যায়ক্রমে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারো মধ্যে কোন লক্ষণ বা সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।

 

প্রসঙ্গত, রোববার (১০ মে) সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের এক হাজতি করোনা উপসর্গ নিয়ে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পরদিন সোমবার (১১ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিপিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

 

আহমদ হোসেন (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি কানাইঘাট থানার একটি খুনের মামলায় গত দুই মাস ধরে জেল-হাজতে ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপির ঘড়াইগ্রামে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •