পিসিআর মেশিন না থাকায় করোনা পরীক্ষা করতে পারছে না শাবিপ্রবি

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২০

পিসিআর মেশিন না থাকায় করোনা পরীক্ষা করতে পারছে না শাবিপ্রবি

শাবিপ্রবি সংবাদদাতা
অনুমতি থাকার পরও করোনাভাইরাস পরীক্ষার কার্যক্রম চালু করতে পারছে না সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের করোনা পরীক্ষার ল্যাবটি ৯০% প্রস্তুত থাকলেও শুধুমাত্র পিসিআর মেশিন না থাকায় করোনা পরীক্ষা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে, সিলেট বিভাগে দিনদিন করোনা রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে নমুনা পরীক্ষার আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এতে করে চাপের মুখে রয়েছে বিভাগের একমাত্র করোনা পরীক্ষাগার এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন নমুনা দিতে আসা শত শত মানুষের চাপে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব চালুর অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে ইতোমধ্যে শাবি ছাড়া বাকি তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে।

 

নমুনা পরীক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ (জিইবি) ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-ই তে জিইবি বিভাগে করোনার নমুনা পরীক্ষার স্থান নির্ধারণ করা হয়।

 

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য যে রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন রয়েছে তা জার্মানির তৈরি কিট ব্যবহার উপযোগী, কিন্তু ইউরোপে চাহিদা বেশি থাকায় জামার্নির কিটের সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে জার্মানির কিট সংকট থাকায় চীনের তৈরি কিট ব্যবহার উপযোগী পিসিআর মেশিন এবং যন্ত্রপাতি নতুন করে ক্রয় করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবকে আরও উন্নত ও ব্যবহার উপযোগী করার জন্য এক কোটি টাকার উপরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

 

অন্যদিকে, গত ৭ এপ্রিল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা ল্যাবে শুরু হয় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা। প্রথম দিকে নমুনার পরিমাণ কম হওয়ায় ওই ল্যাবেই সিলেট বিভাগের রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে একদিন পরেই রিপোর্ট দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর সংগৃহীত নমুনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত নমুনা পাঠাতে হচ্ছে আইইডিসিআরে। সেক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট দিতেও সময় লাগছে বেশি।

 

এজন্য গত ২৮ এপ্রিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবের উপর পরীক্ষার চাপ কমাতে দ্রুত শাবির করোনা শনাক্তের ল্যাব চালুর নির্দেশ দেন করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও ত্রাণ বন্টন কাজের সমন্বয়ে সিলেট জেলার দায়িত্বে থাকা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

 

ল্যাব চালু কবে হবে সেই বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নমুনা পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত জিইবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

ল্যাবের বিষয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা নতুন একটি পিসিআর মেশিন ক্রয় করছি। এক/দুইদিনের মধ্যে মেশিনটি আমরা পেয়ে যাবো। করোনা পরীক্ষার ল্যাবের কাজ প্রায় শেষ। রোববার ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ল্যাব নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাব চালু করবো। একদম ৯০% কাজও হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আইসোলেশনের জন্য আলাদা ৩/৪টি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা যতদ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষার কাজ শুরু করবো।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম