করোনা মোকাবেলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

করোনা মোকাবেলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল

সোনালী সিলেট ডেস্ক
করোনা মোকাবেলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সমন্বয়হীনতার ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা একেক সময় একেক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

 

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে প্রেমবাগানের সামনে বিমানবন্দর থানা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রমজান উপলক্ষে দুস্থ ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

 

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আজকের এই দুঃসময়ে আমি কোনো সমালোচনা করতে চাই না। শুধু যে ক্রটিগুলো, যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি। আমরা মনে করি যে, এই ত্রুটিগুলো দেখে মানুষকে এককরে, সবাইকে একত্রিত করে, ঐক্যবদ্ধ করে সকল মানুষকে নিয়ে আজকে এই দুযোর্গ মোকাবেলা করতে হবে।’

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে এই অসুখ থেকে বাঁচার জন্য। কি দুর্ভাগ্য আমাদের যে সরকার যাদের থেকে মানুষ আশা করে যে দুযোর্গের দিনে, দুঃসময়ের দিনে তারা সঠিক পথ দেখাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারেনি।’

 

তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালের যে ব্যবস্থা সেটা পর্যাপ্ত নয়। একেবারেই অপ্রতুল। ডাক্তাররা আক্রান্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছিলো। আজকে সাংবাদিক বলেন, ডাক্তার বলেন, নার্স বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেন কেউই বাদ পড়ছে না। সরকার সেই দিকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি এখন পর্যন্ত। বরং যেসব সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে সেই সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিটিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। যার ফলে কখনোই কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলেই গোটা দেশে আরো ভয়াবহ দুযোর্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টির করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা আজকে একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিলো যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ থাকবে। বন্ধ করলো। কিন্তু দুইদিন পরে গণ-পরিবহন খোলা রাখলো। ফলে সব কিন্তু গ্রামের মধ্যে, দেশের মধ্যে সারা জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো। এই বিষয়গুলো আজকে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

ফখরুল বলেন, ‘আবার আজকে গার্মেন্টস খুলেছে, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মৗদের যে নিরাপত্তা সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। গার্মেন্টস কর্মীদের এখন আবার অনেকেই আক্রান্ত হওয়া শুরু হয়েছে ঢাকার সাভারে, আশুলিয়ায়, গাজীপুরে নারায়ণগঞ্জে। অর্থাৎ সরকার ব্যর্থ হয়েছে গার্মেন্টস মালিকদেরকে তাদের শ্রমিকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে।’

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি সরকারকে বারবার বলেছি যে, আপনারা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আলোচনা করে, পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। তারা সেই পরামর্শ গ্রহণ করছেন না এবং তারা সেই এক সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ বা যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের কারো সঙ্গে পরামর্শ করে এই কাজগুলো করছেন না।’

 

ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপি মহাসচিবকে পিপিই পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা গেছে। এ সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, বিমান বন্দর থানা বিএনপির জুলহাস মোল্লা, মুনির ভুঁইয়া, পূর্ব বিমান বন্দর থানার এস আই টুটুল, স্থানীয় যুবদলের দেলোয়ার হোসেন সবুজ, আলমগীর হোসেন, স্থানীয় কমিশনার আলী আকবর, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম ভুঁইয়া ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম