মাহে রমজান : আত্মগঠন ও সংশোধনের মাস

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২০

মাহে রমজান : আত্মগঠন ও সংশোধনের মাস

মুসলমানদের জীবনে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন সময় হচ্ছে মাহে রমজান। একজন নিষ্ঠাবান মুমিনের জীবনে এর তাৎপর্য বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। নিজেকে গঠনের, সংশোধনের ও বিচার করার এক উপযুক্ত সময় এই মাস। মানুষের প্রকৃত জীবনবোধ জাগ্রত হওয়ার একটি মোক্ষম সময় এই মাস। ন্যায়, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অপার সম্মিলন ঘটে মহিমান্বিত এই মাসে। জীবনের আনন্দ উৎসবের বড় উপলক্ষটি হয়ে থাকে এই সময়। তাই মুসলমানদের জন্যে এই মাসটি হচ্ছে বছরের শ্রেষ্ঠ সময়।

 

“তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” [২-সূরা বাকারাহ : ১৮৩] আল-কুরআনের এ অমোঘ ঘোষণার আলোকে প্রতি বছরই মুমিনের জীবনে ঈমান ও তাকওয়ার সওগাত নিয়ে আসে প্রবিত্র রমজান। এ মাসের প্রধান ও প্রথম কর্তব্য হলো সিয়াম সাধনা। রমজান হলো ইবাদতের ভরা মৌসুম। ইবাদতের নানামুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভের অফুরন্ত সুযোগ আসে এ মাসে। আর সিয়াম হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একে যথার্থভাবে সুন্নাহ মোতাবেক পালন করে তা থেকে জীবনের মূল মর্ম ও শিক্ষা গ্রহণ করে দুনিয়া-আখিরাতে সফলকাম হওয়া মুমিন জীবনের একমাত্র চাওয়া।

 

রমজান মাস কল্যাণ ও সৌভাগ্যে পরিপূর্ণ। এ মাস রহমতের মাস, বরকতের মাস, মাগফিরাতের মাস। পুরো মাসজুড়ে বান্দার জন্য মহান রবের অফুরন্ত রহমত বর্ষিত হয় হিসেববিহীন। এটি হচ্ছে নেক কাজের মৌসুম। এ মাসে আল্লাহ দিয়েছেন ক্বদরের রাত। যা হাজার মাসের চাইতে উত্তম। এ মাসেই আল্লাহ পবিত্র কোরআন নাযিল করেছেন। সকল নেক কাজের সওয়াব বৃদ্ধি করে দেন। শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে রাখেন, তাই সে মুমিনদেরকে কুমন্ত্রণা দিতে পারে না। এসময় মহান মুনিবের সাথে বান্দার সম্পর্ক শক্তিশালী হয়। এ মাস হচ্ছে অল্প ইবাদতের মাধ্যমে অধিক পুরস্কার লাভ করার উত্তম মাধ্যম।

 

এ মাসের নফল অন্য মাসের ফরযের সমান। তাই এ সামে ইবাদাত-বন্দেগি ও আল্লাহর হুকুমে যথার্থ অনুসরণের মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন মাত্রই ধন্য হন। আলমে আরওয়াহে মহান আল্লাহর কাছে দিয়ে আসা শপথ ও আনুগত্যের নবায়নের মাস হচ্ছে রমজান। সাথে সাথে এটি প্রশিক্ষণ ও সংশোধনের মাস, আত্মসমালেচনার উত্তম সময়, অন্য এগারো মাসের সেরা। ঐ এগারো মাসে মানুষের লোভ-লালসা ও কামনা বসনা দীর্ঘায়িত হতে থাকে। রমজান সেই কামনা বসনার লাগাম টেনে ধরে এবং মানুষকে কল্যাণের রাজপথের দিকে ধাবিত করে। রমজান মুমিনের অন্তরে নেক অনুভূতির জন্ম দেয়।

 

এ মাসের এত মর্যাদার কারণ হচ্ছে মহান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআ’লা এ মাসে তার মহান বাণী পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিল করেছেন। আর এ মহাগ্রন্থটি হচ্ছে বিশ্বমানবতার মুক্তির একমাত্র সনদ। যা দিয়ে মানবতার ত্রাণকর্তা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পথভ্রষ্ট বিশ্ববাসীকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন। কোরআনের এ মাস কল্যাণের সূচনা ও মুমিনের নৈতিক ব্যবসার মওসুম। রমজানের দিন-রাত সব কল্যাণ ও নেক কাজের উৎস।

 

রমজান মুসলমানদের ঐক্যের সূত্র। এ মাসে মুসলমানরা একই পদ্ধতি ও জীবনধারা অনুসরণ করে। সাহরি, ইফতারি, রাতে ঘুমানো, জেগে উঠা, তারাবিহ আদায়Ñ সব নিয়ম-নীতি সময়সূচি এক ও অভিন্ন। তাই এই মাসে মুসলিম সমাজে এক উৎবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাই এটি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠারও এক উপযুক্ত সময়। এ মাস ধৈর্য ও সবরের মাস। গরীব-দুঃখির কষ্টও অনুভব করতে পারে সবাই। তারা যেভাবে উপোস করে সে অনুভব হয় সব শেণির মানুষের। তেমনি পবিত্র রমজান মাসে যাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে সমবায় সমাজ গঠনের এক অবারিত সুযোগ আসে।

 

রমজান হচ্ছে আত্মার উন্নাতির উপায়। যাতে মুসলমানেরা দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্পের অধিকারী হয়। তারা খালিসভাবে সিয়াম পালন করে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ পায়। তাই পরবর্তীতে সে কথা ভুলে গেলে চলবে না। বছরের বাকি এগারো মাসও সেভাবেই কাটাতে হবে। সকল ইবাদত মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত করতে হবে। রামজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত হোক আমাদের পুরো জীবন।

 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম