সিঙ্গাপুরে করোনায় ১৮৯ বাংলাদেশি আক্রান্ত

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

সিঙ্গাপুরে করোনায় ১৮৯ বাংলাদেশি আক্রান্ত

সোনালী সিলেট ডেস্ক
সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রতিটি প্রবাসী চিন্তিত। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দেশটিতে ৪৭ বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া গত ৪ এপ্রিল ২৬, ৫ এপ্রিল ৪৩, ৬ এপ্রিল ২৫ প্রবাসী বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হন৷ সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা ১৮৯।

 

হঠাৎ অভিবাসীদের করোনায় আক্রান্তের কারণ জানতে ২২টি ডরমিটরিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ ডরমিটরির অবস্থা অস্বাস্থ্যকর। কর্তৃপক্ষ সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। কিছু কিছু ডরমিটরিতে যৌথ ওয়াশরুম, কিচেন এমনকি যৌথ ডাইনিং টেবিল ব্যবহার করতে হয়। এসব জায়গায় কোনো কারণে একজন আক্রান্ত হলে খুব সহজেই অন্যদের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়ছে।

 

করোনায় আক্রান্ত একজন জানান, ‘২৫ মার্চ কয়েকজনের সঙ্গে কাজ করেছিলাম৷ বাসায় ফেরার পর জ্বর অনুভব করি। ২৬ মার্চ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই অফিসে রেস্ট নেয়ার কথা জানাই। অফিস থেকে বলা হয় বিশ্রাম নেয়ার জন্য। আমি ডাক্তারের কাছে না গিয়ে জ্বরের ট্যাবলেট খেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে থাকি৷ বিকেলে সুস্থবোধ করি৷

 

কিন্তু ২৭ তারিখ সকালে আবারও জ্বর আসে৷ বসকে বলে ছুটি বাড়িয়ে বাসায় বিশ্রাম নেই। বিকেলের দিকে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার ওষুধ দেয়। ওষুধ খেয়ে সুস্থবোধ করি। তার দুইদিন পর আমার রুমের একজন সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়। সে ডাক্তার দেখালে ডাক্তার তার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে পজিটিভ পায়। সে করোনায় পজিটিভ শুনে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। ২ এপ্রিল রুমের সবার টেস্ট করা হয় এবং সবাই করোনায় পজিটিভ হয়৷’

 

‘এখন খুব আফসোস হচ্ছে আমার জন্যই রুমের সবার মাঝে করোনা ছড়িয়েছে। আমি যদি প্রথম দিন ডাক্তারকে বলতাম করোনাভাইরাস টেস্ট করার জন্য তাহলে হয়ত রুমের অন্যরা নিরাপদ থাকত।’

 

‘অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝেছি করোনা ভাইরাসে প্রবাসীদের আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ নিজেদের অবহেলা। আমরা অসুস্থ হলে অনেকেরই গোপন রাখে। দেশ থেকে আনা নাপা, প্যারাসিটামল কিংবা সিঙ্গাপুরের প্যানাডল খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করি। ততক্ষণে ভাইরাসটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে৷’

 

সিঙ্গাপুর প্রবাসী রিপন চৌধুরী বলেন, ‘এ সময় আমাদের শারীরিক অসুস্থতা গোপন রাখা উচিত নয়। অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো উচিত। সবাই যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকি এবং নিয়মিত হাত ধৌত করি তাহলে করোনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব৷ ’

 

সিঙ্গাপুর প্রবাসী ও লেখক মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সিঙ্গাপুর সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে গাছের গোড়ায় যতœ না নিয়া আগায় পানি ঢালছে!

 

বিশেষ করে স্বাস্থ্য সম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিতকরণ, থাকার জায়গা থেকে কাজের জায়গায় নিরাপদে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের সময়ের মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ। এ তিন ব্যাপারে সরকার যতদিন পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারবে ততদিন পর্যন্ত প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে না।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
0Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম