আনিসুল হকের শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, আত্মিক মৃত্যু হয়নি

প্রকাশিত: ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০১৮

আনিসুল হকের শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, আত্মিক মৃত্যু হয়নি

সোনালী সিলেট ডেস্ক রিপোর্ট ::: বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সর্বশেষ সফল নগরপিতা হিসেবে সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সব ক্ষেত্রে তার কীর্তি প্রমাণ করে- একজন আনিসুল হকের মৃত্যু জাতির জন্য কত বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াল। তবে তার শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, আত্মিক মৃত্যু হয়নি। কর্মেই তিনি বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন সুদীর্ঘ কাল।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কর্মময় জীবন নিয়ে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। আনিসুল হককে একজন স্বপ্নবাজ, কর্মচঞ্চল, উদার ও সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা। তাদের মতে, ব্যবসা, রাজনীতি, সংস্কৃতি জগতে সফল এ মহানায়কের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তা সমাজে বাস্তবায়ন করা হলে সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত সম্মান।

পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ রোববার এ সভার আয়োজন করে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংগঠনের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হলভর্তি উদ্যোক্তা, আনিসুল হকের পরিবারের সদস্য ও শ্রমিক নেতারা আলোচনা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত চেয়ে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

আলোচনায় এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আনিসুল হক ছিলেন স্বচ্ছ, বিনম্র ও সাহসী নেতা। শত্রুকেও হাসিমুখে বরণ করে নিতে জানতেন তিনি। ব্যবসায়ীদের প্রিয় এই নেতা তার কর্মে বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে তার যে কর্মপরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।’

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, ‘আনিসুল হকের চিন্তা-চেতনায় দূরদর্শিতা ছিল। তিনি ছিলেন ভালো নেতা, সংগঠক, ভালো বন্ধু। কোনো ব্যবসায়ীর বিপদ-আপদে সবার আগে তিনি ছুটে যেতেন।’ এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতিদেরও প্রশংসা করেন তিনি। আনিসুল হকের স্মৃতি নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনার প্রস্তাব করেন এ. কে. আজাদ। তার মতে, এতে পরবর্তী প্রজন্ম তাকে জানতে পারবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও মেয়র- সর্বত্রই সফল ছিলেন আনিসুল হক। কোনো কাজ করতে চাইলে সেটা করে দেখিয়েছেন। তার কীর্তি দিয়ে তিনি সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আনিসুল হক ঢাকার মেয়রের দায়িত্ব কঠিন করে দিয়ে গেছেন। মেয়র হিসেবে সর্বত্র তার সফলতার কারণে মেয়রদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। ছোট-বড় কোনো বিষয়ই তার পরিকল্পনার বাইরে ছিল না। তার কাছে শেখার অনেক কিছুই ছিল।’

আনিসুল হকের ভাই এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ সফিউল হক বলেন, ‘অকালমৃত্যুর কারণে আনিসুল হক যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি, সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।’ তার স্মৃতি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক বলেন, ‘ব্যবসায়ী হলেই চতুর হতে হয় না। দরজার এ-পাশে এক কথা আর অপর পাশে অন্য কথা বলেননি তিনি। কথা বলতেন সুস্পষ্ট। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করতেন, না পারলে ক্ষমা চাইতেন।’ তিনি বলেন, ‘আনিসুল হকের দৈহিক মৃত্যু হয়েছে, আত্মিক মৃত্যু হয়নি। তিনি আত্মিকভাবে আমাদের সঙ্গে আছেন।’ এ সময় আবেগঘন কণ্ঠে রুবানা হক সবার কাছে আনিসুল হকের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া চান।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে অসাধারণ কীর্তির স্বাক্ষর রেখে গেছেন আনিসুল হক। এসব কীর্তি প্রমাণ করে তার মৃত্যুতে জাতির কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আনিসুল হক দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তার কাজের মাধ্যমেই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
4Shares
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম